কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধ’\র্ষণ এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রে’\প্তার জিসান মিয়া (Jisan Mia) বর্তমানে পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (Cumilla Medical College Hospital)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের দাবি, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তার শারীরিক অবস্থায় গুরুতর কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।
হাসপাতাল সূত্র এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিসান নিজেকে অসুস্থ হিসেবে উপস্থাপন করলেও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী তিনি পুরোপুরি সুস্থ। এ অবস্থায় পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে থাকার কারণে তাকে এখনো আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার বাদী ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে এড়ানোর উদ্দেশ্যে জিসান অপহরণের একটি নাটক সাজিয়েছিলেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই ওই নারীর দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রে’\প্তার দেখানো হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালে আনার পর প্রথমদিকে জিসান স্বাভাবিকভাবে কথা বলছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ধ’\র্ষণের মামলায় গ্রে’\প্তার দেখানো হয়েছে জানতে পারার পর থেকেই তিনি চোখ খুলছেন না এবং অসংলগ্ন আচরণ শুরু করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জিসানের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা মূল্যায়নের জন্য চার সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের প্রধান হিসেবে রয়েছেন মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। এছাড়া অ্যানেসথেসিয়া, নিউরো মেডিসিন ও মনোরোগবিদ্যা বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত আছেন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত মতামত দেবে। তিনি সুস্থ প্রমাণিত হলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তাকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ১২ জুন বিয়ের আশ্বাস দেওয়া হলেও ১১ জুন রাতেই জিসান আত্মগোপনে চলে যান।
তদন্তে আরও জানা যায়, গত ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে অনুসন্ধান চালিয়ে পুলিশ ঘটনার ভিন্ন চিত্র পায়।
শুক্রবার রাতে লাকসাম রেলওয়ে জংশন (Laksam Railway Junction) এলাকা থেকে জিসানকে ‘অচেতন’ অবস্থায় উদ্ধারের দাবি করে তার পরিবার। কিন্তু পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি শুরুতে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন। পরে গ্রে’\প্তারের বিষয়টি জানার পর থেকেই তার আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দাউদকান্দি মডেল থানা (Daudkandi Model Police Station)-এ মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জিসানসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অপর তিন আসামি সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব হাসানকে ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে জিসান হাসপাতালে থাকায় তাকে এখনো আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, জিসান মিয়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির (Bangladesh Islami Chhatra Shibir)-এর কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং আলোচিত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বহিষ্কার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।


