সময় টিভির নামে পৃথক হিসাব খোলার অভিযোগ, সাবেক এমডি আহমেদ জোবায়েরকে আদালতের সমন

স্বাক্ষর জা’\লিয়াতির মাধ্যমে সময় টিভির নামে পৃথক ব্যাংক হিসাব খোলা এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ জোবায়ের (Ahmed Zobair)-এর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সিটি গ্রুপ (City Group)-এর পক্ষ থেকে আহমেদ জোবায়েরসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সময় টিভির নামে পৃথক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে স্বাক্ষর জা’\লিয়াতি এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে।

আহমেদ জোবায়ের বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন বলেও মামলাসংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি। সম্প্রতি তিনি পুনরায় প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগও তুলেছে সিটি গ্রুপসংশ্লিষ্ট পক্ষ।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আহমেদ জোবায়ের আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের ভাগনে। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি সময় টিভির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তাকে প্রতিষ্ঠানটি থেকে অপসারণ করা হয়।

এরপর একটি মহলের ইন্ধনে সিটি গ্রুপের মালিকানাধীন সময় টিভি (Somoy TV)-র নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে সময় টিভির ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন করেন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামোতেও একাধিক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আহমেদ জোবায়ের প্রায় ১৮০ জনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের বাবুকে অপসারণের চিঠিও দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সময় টিভির একাধিক সংবাদকর্মীর অভিযোগ, আহমেদ জোবায়েরের নেতৃত্বে বিগত সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্পাদকীয় অবস্থান ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। তাদের দাবি, সে সময় সময় টিভিকে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রচারমাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

সংবাদকর্মীরা আরও অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সংবাদ ও অনুষ্ঠানে নিয়মিতভাবে বিএনপি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-কে লক্ষ্য করে বিরূপ বক্তব্য ও সমালোচনা প্রচার করা হতো।

তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আহমেদ জোবায়ের কিংবা অন্য অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, প্রদত্ত তথ্যে তা উল্লেখ করা হয়নি। আদালতের সমন জারির পর মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে অভিযোগগুলোর আইনি ভিত্তি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য আরও স্পষ্ট হতে পারে।