ফুটবল মাঠে তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের প্রতিনিধি। একজন ব্রাজিলের, অন্যজন আর্জেন্টিনার। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতার সেই সীমানা বহু আগেই পেরিয়ে গেছে নেইমার জুনিয়র (Neymar Jr.) ও লিওনেল মেসি (Lionel Messi)-র বন্ধুত্ব। বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক আবারও আলোচনায় এসেছে আর্জেন্টাইন মহাতারকার ৩৯তম জন্মদিনকে ঘিরে।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের নকআট পর্ব নিশ্চিত করার পর ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে মেসির জন্মদিন প্রসঙ্গ ওঠে। তখনই দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও বন্ধু সম্পর্কে নিজের অনুভূতির কথা খোলামেলাভাবে জানান নেইমার।
তিনি বলেন, ‘মাঠের বাইরে মেসি আরও ভালো একজন মানুষ।’ এ সময় উপস্থিত সাংবাদিক মজা করে মন্তব্য করেন, ‘মাঠেও তো সে অসাধারণ।’ জবাবে হাসিমুখে সম্মতি জানান ব্রাজিলিয়ান তারকা, যা মুহূর্তেই আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
শুধু প্রশংসাতেই থেমে থাকেননি নেইমার। মেসির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতাও তুলে ধরেন তিনি। নেইমার বলেন, ‘এই কারণেই আমি তাকে চিনি এবং তার সঙ্গে খেলেছি বলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। সে আমার খুব ভালো বন্ধু। গত কয়েক দিনেও আমাদের অনেক কথা হয়েছে। সে জানে আমি তাকে কতটা ভালোবাসি।’
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এই বন্ধুত্বের শুরু এক দশকেরও বেশি আগে। ২০১৩ সালে বার্সেলোনা (FC Barcelona)-তে যোগ দেওয়ার পর তরুণ নেইমারকে আপন করে নেন মেসি। সময়ের সঙ্গে তাদের বোঝাপড়া এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায়, যা পরবর্তীতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়ে পরিণত হয়।
পরে লুইস সুয়ারেজ (Luis Suárez)-কে সঙ্গে নিয়ে তারা গড়ে তোলেন কিংবদন্তি ‘এমএসএন’ আক্রমণত্রয়ী। গতিময়তা, দক্ষতা ও গোল করার অসাধারণ ক্ষমতার কারণে এই ত্রয়ীকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২০১৫ সালে তাদের দুর্দান্ত সমন্বয়ে বার্সেলোনা জিতে নেয় ঐতিহাসিক ট্রেবল। ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোর রক্ষণভাগকে বারবার বিপর্যস্ত করা সেই দল আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে।
এরপর ২০১৭ সালে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে নেইমার পাড়ি জমান প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (Paris Saint-Germain)-এ। আলাদা ক্লাবে খেললেও দুই বন্ধুর সম্পর্কের উষ্ণতায় কোনো ভাটা পড়েনি। ২০২১ সালে মেসিও পিএসজিতে যোগ দিলে আবারও একই জার্সিতে মাঠে নামার সুযোগ পান তারা। যদিও প্রত্যাশিত ইউরোপীয় সাফল্য তাদের নাগালের বাইরে থেকে যায়।
২০২৩ সালে দুজনেই পিএসজির অধ্যায়ের ইতি টানেন। মেসি যোগ দেন ইন্টার মিয়ামিতে, আর নেইমার পাড়ি জমান আল-হিলালে। পরে চোটের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
এদিকে চলমান বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন মেসি। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার করা পাঁচটি গোলের সবকটিতেই তার নাম জড়িয়ে আছে। গোল করার পাশাপাশি পুরো দলের খেলায় তার প্রভাব আবারও প্রমাণ করছে কেন তিনি এখনও বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত।


