রাজশাহীর তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া এক গৃহবধূর কানের সোনার রিং খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের এক মালির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে হাসপাতাল এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ওই মালি একদিন আত্মগোপনে থাকার পর স্থানীয় জনতার হাতে আটক হন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে সোপর্দ করা হয়। খবর পেয়ে তানোর থানা-পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
বুধবার রাত প্রায় ১০টার দিকে এ ঘটনা সামনে আসে। এর আগে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া নারীর কানের রিং খুলে নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নি’\হতে’\র স্বজনরা।
অভিযুক্ত মালি রায়হান আলী (Rayhan Ali) ঘটনার পর থেকেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতাল ও নি’\হতে’\র পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তানোর উপজেলা (Tanore Upazila)-এর সুকদেবপুর গ্রামের মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী লিপি বেগম (Lipi Begum) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনেরা তাকে দ্রুত তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (Tanore Upazila Health Complex)-এর জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর জরুরি বিভাগের বেডে থাকা লিপি বেগমের কানের সোনার রিং খুলে নেন হাসপাতালের মালি রায়হান আলী। পরে লাশ বাড়িতে নেওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা রিংটি খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান।
বুধবার সকালে দাফন শেষে নি’\হতে’\র স্বজনেরা হাসপাতালে আসেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। তাদের দাবি, ফুটেজে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, অভিযুক্ত মালি মৃত নারীর কানের রিং খুলে নিচ্ছেন। এ ঘটনার পর নি’\হতে’\র ভাই মিঠুন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জোবাইদা রহমান (Dr. Zobaida Rahman) বলেন, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি রোগীর স্বজন পরিচয়ে জরুরি বিভাগে প্রবেশ করেন। তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হলেও তিনি অবস্থান করেন। পরে রিং হারানোর বিষয়টি জানা যায়। পরদিন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় ঘটনাটি স্পষ্ট হয় বলে জানান তিনি।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত মালি রায়হান আলী বুধবার বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে তিনি দাবি করেন, মৃত নারীর কানের রিং খুলে একজন নারীর হাতে দিয়েছেন। তবে ওই নারীর পরিচয় তিনি জানাতে পারেননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে এমন কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি।
বুধবার রাতে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত রায়হান আলীকে আটক করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বার্নাবাস হাসদাক (Dr. Barnabas Hasdak)-এর কাছে সোপর্দ করেন। পরে বিষয়টি তানোর থানাকে জানানো হলে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
তানোর থানার ওসি এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


