‘আপনি ন’\গ্ন হয়ে নির্দেশনা দিলে আমিও শট দেব’—‘ওমকারা’র সেটের অজানা গল্প শোনালেন সাইফ

বলিউড পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ (Vishal Bhardwaj) নির্মিত কাল্ট সিনেমা ওমকারা (Omkara) মুক্তির প্রায় দুই দশক পেরোতে চলেছে। তবে ছবিটির শুটিং ফ্লোরে ঘটে যাওয়া নানা অজানা ঘটনা এখনও দর্শক-শ্রোতাদের বিস্মিত করে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সিনেমাটির অন্যতম প্রধান অভিনেতা সাইফ আলি খান (Saif Ali Khan) এমনই এক বিস্ফোরক, একই সঙ্গে মজার স্মৃতি সামনে এনেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি দৃশ্যের জন্য খোদ পরিচালকই তাকে ক্যামেরার সামনে সম্পূর্ণ ন’\গ্ন হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

‘ওমকারা’র সেটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে সাইফ বলেন, ছবিটির একটি বিশেষ দৃশ্যের কথা এখনও তার স্পষ্ট মনে আছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ একটি সংলাপ বলার কথা ছিল তার। প্রস্তুতির মধ্যেই হঠাৎ বিশাল ভরদ্বাজ এসে জানতে চান, দৃশ্যটি তিনি পুরোপুরি ন’\গ্ন অবস্থায় শুট করতে পারবেন কি না।

পরিচালকের প্রস্তাবটি সাইফের কাছে অভিনব ও রোমাঞ্চকর মনে হলেও বাস্তব পরিস্থিতি তাকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছিল। কারণ, শুটিং সেটে তখন অনেক মানুষের উপস্থিতি ছিল। ফলে সঙ্গে সঙ্গে রাজি না হয়ে তিনি দ্বিধায় পড়ে যান।

সাইফ বলেন, ‘বিশাল জি হঠাৎ এসে আমাকে বললেন, “তুমি কি এই দৃশ্যটা পুরো ন’\গ্ন হয়ে শুট করতে পারবে?” আইডিয়াটা দারুণ রোমাঞ্চকর ছিল। কিন্তু সেটে তখন প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল, তাই আমি একটু দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলাম।’

তবে সরাসরি প্রস্তাবটি ফিরিয়েও দেননি অভিনেতা। বরং মজার ছলেই পরিচালকের সামনে পাল্টা একটি শর্ত রাখেন তিনি। সাইফ তাকে বলেন, ‘শুনুন, আপনি যদি ন’\গ্ন হয়ে ডিরেকশন দেন, তবে আমি ন’\গ্ন হয়েই শট দেব।’

অভিনেতার এমন জবাবে হেসে ওঠেন বিশাল ভরদ্বাজ। পরিচালক তখন সাফ জানিয়ে দেন, তিনি নিজে সেটি করতে পারবেন না। সাইফের ভাষায়, ‘উনি হেসে বললেন, “না ভাই, আমি পারব না।” ব্যস, ওখানেই সেই গল্প শেষ হয়ে যায়।’

তবে প্রায় দুই দশক পর এখন ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে ভাবছেন সাইফ। তার মনে হচ্ছে, সেদিন পরিচালকের প্রস্তাবে রাজি হয়ে দৃশ্যটি ওইভাবেই শুট করলে হয়তো পর্দায় অসাধারণ কিছু তৈরি হতে পারত। সেই সময়ের দ্বিধার জায়গায় এখন কিছুটা আফসোসও কাজ করে তার মধ্যে।

সাইফ বলেন, ‘আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভাবলে মনে হয়, ন’\গ্ন হয়ে শুট করতে আমার কোনো আপত্তি থাকত না। আসলে বিশাল তো পেছন থেকে সিলুয়েটে শুট করতেন। ওটা পর্দায় দেখতে দারুণ লাগত।’

তার মতে, সিনেমাটি নির্মাণের সময় তারা নতুন ধরনের অনেক কিছু করার চেষ্টা করছিলেন। প্রচলিত দৃশ্যধারণের বাইরে গিয়ে ভিন্ন কিছু তৈরির আগ্রহও ছিল পুরো দলের মধ্যে। তাই দৃশ্যটি পরিকল্পনা অনুযায়ী ন’\গ্ন অবস্থায় ধারণ করা হলে সেটি ছবিতে একেবারে আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারত।

অভিনেতা বলেন, ‘তখন আমরা অনেক নতুন কিছু করার চেষ্টা করছিলাম। তাই এটা করলে একটা দারুণ ব্যাপার হতো। সত্যি বলতে, আজ এমন প্রস্তাব পেলে আমি নিশ্চিতভাবেই রাজি হয়ে যেতাম।’

শেষ মুহূর্তে বদলে যায় পুরো দৃশ্য

ন’\গ্নতার পরিকল্পনা আর এগোয়নি। তবে সেখানেই দৃশ্যটি নিয়ে পরিচালকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হয়ে যায়নি। শট নেওয়ার একেবারে শেষ মুহূর্তে বিশাল ভরদ্বাজ পুরো দৃশ্যটির খোলনলচেই বদলে দেন।

মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সাইফের দীর্ঘ একটি সংলাপ বলার কথা ছিল। ছবিতে তার অভিনীত ল্যাংড়া ত্যাগী (Langda Tyagi) চরিত্রটি সেই দৃশ্যে নিজের জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দেবে। সংলাপে চরিত্রটি বলবে, ‘তুমি আমাকে বাহুবলী বানালে না, এবার আমি এর প্রতিশোধ নেব…।’

কিন্তু ক্যামেরা চালু হওয়ার ঠিক আগে বিশাল ভরদ্বাজ সাইফের কাছে এসে জানান, তিনি আর কোনো সংলাপ রাখতে চান না। তার মাথায় নতুন একটি দৃশ্যের পরিকল্পনা এসেছে, যা সংলাপের চেয়েও শক্তিশালীভাবে চরিত্রটির ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহা ফুটিয়ে তুলতে পারে।

সাইফ বলেন, ‘শট নেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে বিশাল জি আমার কাছে এসে বললেন, “আমি চাই না তুমি কোনো ডায়লগ বলো। আমার মাথায় অন্য একটা চমৎকার আইডিয়া এসেছে।”’

বিশাল ভরদ্বাজের সেই তাৎক্ষণিক পরিকল্পনাই পরে দৃশ্যটিকে স্মরণীয় করে তোলে। পরিচালক সাইফকে আয়নার সামনে দাঁড়াতে বলেন। তার পেছন থেকে একটি ট্রলির ওপর রাখা ক্যামেরা ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে আসবে। একই সঙ্গে অভিনেতার হাতে দেওয়া হবে একটি ভারী হাতুড়ি বা লোহার টুকরো।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা ল্যাংড়া ত্যাগী সেই ভারী বস্তু দিয়ে আয়নায় আঘাত করবে। আঘাতে আয়নাটি ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। ভাঙা কাচের আলাদা আলাদা টুকরোয় চরিত্রটির মুখের বিভিন্ন অংশ খণ্ডিতভাবে প্রতিফলিত হবে। কোনো সংলাপ ছাড়াই সেই দৃশ্যের ভেতর দিয়ে তার মানসিক অস্থিরতা, অপমানবোধ এবং প্রতিশোধের আগুন তুলে ধরা হবে।

সাইফ পরিচালকের নির্দেশনার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘পরিচালক আমাকে বললেন, “তুমি আয়নার সামনে দাঁড়াও। পেছন থেকে ট্রলিতে ক্যামেরা তোমার দিকে এগোবে। তোমার হাতে আমি একটা ভারী হাতুড়ি বা লোহার টুকরো দিচ্ছি। তুমি নিজের রাগে নিজেই ওই আয়নাটা ভেঙে চুরমার করে দেবে।”’

শুধু আয়না ভাঙাতেই দৃশ্যটি শেষ হয়নি। বিশাল ভরদ্বাজ আরও পরিকল্পনা করেছিলেন, হাতুড়ির আঘাতে সাইফের হাত কেটে যে র’\ক্ত বের হবে, সেটিই তিনি নিজের কপালে রাজতিলকের মতো মেখে নেবেন। ভাঙা আয়নায়‘আমি নগ্ন হচ্ছি, আপনিও জামা-কাপড় খুলে ফেলুন’, হঠাৎ কেন এমন বললেন সাইফ মুখের খণ্ডিত প্রতিচ্ছবি এবং কপালে র’\ক্তের সেই চিহ্ন—সব মিলিয়ে সংলাপ ছাড়াই দৃশ্যটি চরিত্রটির ভেতরের তীব্রতা প্রকাশ করবে।

সাইফ বলেন, ‘আয়নাটা এমনভাবে ভাঙবে, যাতে কাচের টুকরোয় তোমার মুখের বিভিন্ন অংশ খণ্ড খণ্ড হয়ে ধরা পড়ে। আর হাতুড়ি মারার চোটে তোমার হাত কেটে যে র’\ক্ত বের হবে, সেই র’\ক্ত নিজের কপালে রাজতিলকের মতো লেপে দেবে। ব্যস, কোনো সংলাপের প্রয়োজন নেই।’