ব্রিটেনে (Britain) নাগরিকদের জন্য আবাসনব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য কোনো ঘাটতি না থাকলেও দেশটির বিপুলসংখ্যক মানুষ যাযাবরের মতো নৌকায় বসবাস করছেন। তাদের বেশিরভাগই স্বেচ্ছায় নৌকাকে স্থায়ী আবাস হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আবার কিছু মানুষ নৌকায় থাকছেন অস্থায়ীভাবে।
তবে এসব নৌকা কোনোভাবেই বিশাল আকারের নয়। অধিকাংশই নিতান্ত ছোট, সরু ও সীমিত জায়গার নৌকা। এগুলো সাধারণত ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ ছোট ছোট খাল, নদীপথ কিংবা উপকূলীয় মেরিনায় অবস্থান করে। স্থলভাগে ঘর থাকার প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে এই মানুষগুলো জলপথেই গড়ে তুলেছেন নিজেদের আলাদা জীবন।
রেসিডেন্সিয়াল বোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (Residential Boat Owners Association)-এর হিসাব অনুযায়ী, ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ জলপথে চলাচলকারী ‘ন্যারোবোট’ এবং উপকূলীয় কিংবা জোয়ার-ভাটার প্রভাব থাকা এলাকার মেরিনায় অবস্থানরত ‘হাউসবোট’-এ প্রায় ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার মানুষ বসবাস করেন।
পরিসংখ্যান বলছে, ক্যানাল অ্যান্ড রিভার ট্রাস্ট (Canal & River Trust)-এর নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা প্রায় ৮ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার নৌকা আনুষ্ঠানিকভাবে স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে নিবন্ধিত। নিবন্ধিত নৌকা-মালিকদের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ তাদের নৌকায় সার্বক্ষণিকভাবে বসবাস করেন।
ক্যানাল অ্যান্ড রিভার ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, নৌকায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রাজধানী লন্ডনে (London)। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজধানীর জলপথে নৌকা-বাসিন্দার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তাদের অনেকেই ‘কন্টিনিউয়াস ক্রুজার’ হিসেবে পরিচিত এক ধরনের জীবনযাপন অনুসরণ করেন, যেখানে কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে দীর্ঘদিন অবস্থান না করে নিয়মিত স্থান পরিবর্তন করতে হয়।
লন্ডনের জলপথগুলোতে অন্তত ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার নৌকা অবস্থান করে। এসব নৌকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে কিংবা শীতকালীন সময়ের জন্য বসবাস করেন। গ্রীষ্মকালে নৌকা ও নৌকা-বাসিন্দার সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।
তবে জলপথের এই জীবন পুরোপুরি স্থির নয়। নৌকায় বসবাসকারীদের অনেককেই যাযাবরের মতো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ১৪ দিন পরপর নৌকার মালিকদের তাদের নৌকা সরিয়ে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে হয়। ফলে নৌকাই তাদের ঘর হলেও সেই ঘরের ঠিকানা বদলে যায় নিয়মিত।


