জোড়া গোলে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়লেন এমবাপ্পে, মেসিকে ছাড়িয়ে একক শীর্ষে

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে গোলের দেখা পাননি কিলিয়ান এমবাপ্পে (Kylian Mbappe)। এমনকি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের প্রথমার্ধেও ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। তবে বিরতির পর বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। জোড়া গোল করে শুধু ফ্রান্সকে ম্যাচে ফেরাননি, গড়েছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ডও।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে চলতি বিশ্বকাপে ৮ গোল নিয়ে লিওনেল মেসি (Lionel Messi)-র সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার অবস্থানে ছিলেন এমবাপ্পে। দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গোল করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে পেছনে ফেলে এককভাবে শীর্ষে উঠে যান তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও নিজের নাম লেখান ফ্রান্স অধিনায়ক।

বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা ২১টি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর এমবাপ্পের মোট গোল দাঁড়িয়েছে ২২-এ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এককভাবে শীর্ষস্থান দখল করেছেন তিনি।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ফ্রান্সের জন্য ছিল হতাশাজনক। প্রথমার্ধেই চার গোলে পিছিয়ে পড়ে লে ব্লুজরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা শুরু করে তারা।

ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে মাইকেল অলিসের দারুণ থ্রু-পাস থেকে বক্সের ভেতরে বল পান এমবাপ্পে। সুযোগটি কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি তিনি। বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান হেন্ডারসনকে পরাস্ত করে ব্যবধান কমান ফরাসি অধিনায়ক।

এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের নবম গোল পূর্ণ করেন এমবাপ্পে এবং মেসিকে ছাড়িয়ে গোলদাতার তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে যান।

এরপর ৬৬তম মিনিটে আসে আরও বড় মুহূর্ত। মাইকেল অলিসের সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু পাসের পর বক্সের কিনারা থেকে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে বল জালে জড়িয়ে দেন এমবাপ্পে। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে তার দশম এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে মোট ২২তম গোল।

এই জোড়া গোলের সুবাদে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এমবাপ্পে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মেসির গোলসংখ্যা এখন ৮টি। তবে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের সামনে এখনও ফাইনাল বাকি রয়েছে। স্পেনের বিপক্ষে সেই ম্যাচে গোল বাড়িয়ে ব্যবধান কমানোর সুযোগ থাকবে তার সামনে।