বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন (Spain)-এর বিপক্ষে লড়াইয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কার্যত অসহায়ই ছিল আর্জেন্টিনা (Argentina)। নির্ধারিত ৯০ মিনিটজুড়ে স্প্যানিশদের ধারাবাহিক আক্রমণের চাপে কোণঠাসা হয়ে থাকা আলবিসেলেস্তেরা প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি। এমনকি অতিরিক্ত সময়েও তাদের নেওয়া দুটি শটের কোনোটিই লক্ষ্যে ছিল না। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে এমন পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার জন্য এক বিব্রতকর রেকর্ড হিসেবেই ইতিহাসে জায়গা করে নিল।
লা রজার লাগাতার আক্রমণের ঢেউ ঠেকিয়ে মূলত রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় ম্যাচটিকে কোনোভাবে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজ (Enzo Fernández) দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে শেষ মুহূর্তের লড়াই ১০ জন নিয়েই শেষ করতে হয় আর্জেন্টিনাকে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান মাঠের চিত্রটাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে স্পেন মোট ১৫টি শট নেয়, বিপরীতে আর্জেন্টিনার শটসংখ্যা ছিল শূন্য। কর্নারের সংখ্যাতেও ছিল বিশাল ব্যবধান। স্পেন পায় ৯টি কর্নার, আর আর্জেন্টিনা আদায় করতে সক্ষম হয় মাত্র ১টি। এতটা দাপট দেখিয়েও অবশ্য নির্ধারিত সময়ে গোলের দেখা পায়নি স্পেন।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই স্পেন একবার বল জালে পাঠালেও ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল করা হয়, যা নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। তবে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে আর ভুল করেনি স্প্যানিশরা। ফেরান তরেস (Ferran Torres)-এর করা একমাত্র গোলেই শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে স্পেন।
এই ফাইনাল আরও একটি নেতিবাচক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকল। ওপ্টা (Opta)-র তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো দল নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে যুক্ত হলো আর্জেন্টিনার নাম।


