জুলাই মাসের শুরু থেকেই নিট কেলেঙ্কারিসহ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগের দাবিতে অনশন শুরু করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। দিল্লি (Delhi)-র যন্তর-মন্তরে (Jantar Mantar) টানা ২৫ দিন ধরে চলা বিক্ষোভ গত সোমবার, ২০ জুলাই, ‘সংসদ চলো’ অভিযানকে কেন্দ্র করে আরও নাটকীয় মোড় নেয়।
বিক্ষোভকারী ‘আরশোলা’দের ঠেকাতে পুলিশ বাহিনী লা’\ঠি’\চার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে দেশের বিনোদনজগতের একাংশও সরব হয়ে ওঠেন। অভিনেত্রী শাবানা আজমি থেকে জিনাত আমান, অপর্ণা সেন, অনুরাগ কাশ্যপ ও অরিজিৎ সিং—এমনকি বলিউডের বর্তমান প্রজন্মের কয়েকজন তারকাও আন্দোলনের প্রতি সম্মতি জানিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।
তবে সংশ্লিষ্ট আন্দোলন নিয়ে দেশের ভেতরে তুমুল আলোচনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ (Katrina Kaif)। আর অভিনেত্রীর এই নীরবতাই ক্ষুব্ধ করেছে তার ভক্তমহলের একাংশকে। তাদের বক্তব্য, ‘প্রিয় তারকার প্রতি ভালোবাসার চেয়েও আমাদের কাছে দেশভক্তি আগে।’ সেই ক্ষোভের প্রভাব গিয়ে পড়েছে ক্যাটরিনা কাইফকে ঘিরে তৈরি একটি জনপ্রিয় ফ্যানপেজেও। শিক্ষার্থীদের পক্ষে অভিনেত্রী মুখ না খোলায় পেজটির পরিচালকেরাই সেটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার দাবিতে যখন দিল্লির রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন, তখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে সেলিব্রেটিরা কি কেবল ‘তামাশা’ দেখছেন—এমন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ক্যাটরিনা কাইফসহ সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির একাংশ। ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে কোনো বক্তব্য না দেওয়ায় গত কয়েক দিনে একাধিক তারকাকে কটাক্ষ ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। এবার সেই তালিকায় নিজের অনুরাগীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়লেন ক্যাটরিনা।
দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ক্যাথলিক_ফ্যানস’ নামে একটি পেজ চালু ছিল। সেখানে নিয়মিত প্রকাশ করা হতো ক্যাটরিনা কাইফের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা খবর। অভিনেত্রীর নতুন ছবি, উপস্থিতি কিংবা বিভিন্ন কর্মকাণ্ড—সবকিছুর খোঁজ মিলত ওই পেজে। কিন্তু ‘ককরোচ’ বিক্ষোভকে ঘিরে তৈরি হওয়া ক্ষোভের মধ্যেই সেই ফ্যানপেজের কার্যক্রম এখন বন্ধ হয়ে গেছে।
ফ্যানপেজটির স্রষ্টা নিজেই একটি বিবৃতি প্রকাশ করে সিদ্ধান্তের কারণ জানিয়েছেন। ক্যাটরিনাকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, ‘শৈশব থেকেই আমি আপনার ভক্ত। কিন্তু আমরা, যেসব ভারতীয় শিক্ষার্থী আপনাকে মন থেকে ভালোবাসি, তাদের হয়ে আপনি একটি কথাও বলতে পারলেন না। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস কিংবা মেরুদণ্ড আপনার নেই।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আপনার কঠিন সময়ে আমরা আপনার পাশে ছিলাম। কিন্তু আজ যখন আপনার সমর্থন আমাদের প্রয়োজন, তখন আপনি আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। আমি আপনাকে আনফলো করার পাশাপাশি এই ফ্যানপেজটিও বন্ধ করে দিচ্ছি। আপনি এর যোগ্য নন।’
ওই পোস্ট প্রকাশের পর মন্তব্যের ঘরেও ক্যাটরিনা কাইফকে ঘিরে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, ‘ভারতে বাস, ভারতেই কাজ, অথচ ভারতীয়দের হয়ে কথা বলার সাহস নেই।’ আরেকজন ফ্যানপেজটির প্রশাসকের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে লেখেন, ‘পেজের অ্যাডমিনের প্রতি শ্রদ্ধা।’
কেউ আবার অভিনেত্রীকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘আপনিও তো মা, নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করছেন না?’ এমন নানা কটূক্তি, প্রশ্ন ও সমালোচনায় ছেয়ে গেছে নেটভুবন। আন্দোলন নিয়ে অভিনেত্রীর নীরবতার কারণেই মূলত ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী।
কর্মসূত্রে ক্যাটরিনা কাইফ মুম্বাইয়ে বসবাস করলেও তার জন্ম ব্রিটিশ অধ্যুষিত হংকংয়ে। সেই প্রসঙ্গ টেনেও অভিনেত্রীকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন অনেকে। তাদের প্রশ্ন, ‘সে কারণেই কি ভারতীয়দের প্রতি কোনো টান নেই? যেসব মানুষ আপনাকে সেলিব্রেটি বানিয়েছেন, তাদের নিয়ে কেন কোনো উচ্চবাচ্য নেই?’ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পক্ষে কথা না বলায় এমন অসংখ্য প্রশ্ন ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ক্যাটরিনা কাইফ।
