টলিপাড়ায় গত প্রায় দু’মাস ধরে একটাই গুঞ্জন ঘুরছিল— তবে কি ভেঙে যেতে বসেছে অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু (Ranojoy Bishnu) এবং অভিনেত্রী শ্যামৌপ্তি মুদলি (Shyamoupti Mudly)-র সংসার? চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই ঘটা করে আইনি ও আনুষ্ঠানিক বিয়ে সেরেছিলেন এই তারকা দম্পতি। বাংলা ধারাবাহিকের সেট থেকে শুরু হওয়া তাঁদের প্রেম শেষ পর্যন্ত পরিণতি পেয়েছিল টলিপাড়ার বহু পরিচিত তারকার উপস্থিতিতে।
কিন্তু বিয়ের বয়স পাঁচ মাস পেরোতে না পেরোতেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে বিচ্ছেদের জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অনুরাগীদের একাংশ। গত কয়েক সপ্তাহে সেই গুঞ্জন আরও বাড়তে থাকায় এবার নীরবতা ভাঙলেন রণজয় নিজেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিয়োবার্তা পোস্ট করে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে চলতে থাকা জল্পনা ও কাদা ছোড়াছুড়ির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অভিনেতা।
সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ওই ভিডিয়োতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রণজয়কে বলতে শোনা যায়, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বাধ্য হয়েই তাঁকে এই ভিডিয়োবার্তা তৈরি করতে হচ্ছে। অনুরাগী, পরিচিত এবং কাছের মানুষদের কাছ থেকে একের পর এক মেসেজ ও প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলেও জানান।
রণজয়ের বক্তব্য, “আমি এবং শ্যামৌপ্তিকে নিয়ে এত কথা হচ্ছে, আর যেভাবে কথাগুলো বলা হচ্ছে— এই কাদা ছোড়াছুড়িটা হচ্ছে, তা ভালো লাগছে না। আমাদের কেউ এসে বলে দিয়ে যায়নি যে তোমাদের বিয়ে করতে হবে… কিন্তু আমরা ভালোবেসে বিয়ে করেছি অত্যন্ত উচ্ছ্বাসের সঙ্গে। আজকে নানা জায়গায় এসব কথা শুনতে বা দেখতে আমাদের দুজনেরই খুব খারাপ লাগছে।”
বিয়ে করেছিলেন নিজেদের ইচ্ছায়, ভালোবেসে। সেই সম্পর্ক নিয়েই যখন নানা ধরনের অনুমান, বক্তব্য ও দাবি ছড়িয়ে পড়ছে, তখন বিষয়টি তাঁদের দুজনের কাছেই কষ্টকর হয়ে উঠেছে— ভিডিয়োবার্তায় সেই কথাই স্পষ্ট করেছেন অভিনেতা।
সংসার ভাঙার গুঞ্জন শুরু হওয়ার পর সংবাদমাধ্যম থেকেও একের পর এক ফোন পেয়েছেন রণজয়। কিন্তু এতদিন তিনি কেন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। অভিনেতার কথায়, এই মুহূর্তে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দুজনেই মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।
রণজয় বলেন, “আমি সবসময় বলে এসেছি, একজন মহিলাকে নিয়ে কথা বলার আগে আমাদের ভাবা উচিত। আপনাদের কাছে কি কোনও প্রমাণ আছে? এত বড় একটা কথা বলছেন? আমি তো খুব সাধারণ এবং অত্যন্ত সোজা-সাপ্টা একটা জীবনযাপন করি। শুধু আমি একজন সেলিব্রিটি বলে— আমার মনে হচ্ছে যে এটা ভীষণ অনধিকার চর্চা করা হচ্ছে এবং খুব খারাপ কথা বলা হচ্ছে একজন মানুষকে নিয়ে।”
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, কেবল তারকা হওয়ার কারণেই ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা অতিক্রম করে এত আলোচনা হওয়াকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না তিনি। বিশেষ করে শ্যামৌপ্তিকে ঘিরে যেভাবে নানা মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে, তা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন রণজয়।
বিয়ে ঘিরে খরচ এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক দাবিকেও সরাসরি নাকচ করেছেন অভিনেতা। ওইসব দাবি নিয়ে নিজের ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে স্ত্রী শ্যামৌপ্তির প্রতি নিজের আস্থার কথাও পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন।
রণজয়ের দাবি, শ্যামৌপ্তি এমন কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করতে পারেন না। স্ত্রীর ওপর তাঁর সম্পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে বলেও ভিডিয়োবার্তায় স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁদের সম্পর্ক বা বিয়ের আর্থিক দিক নিয়ে বাইরে থেকে ছড়িয়ে দেওয়া নানা বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই— এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন অভিনেতা।
টাকা-পয়সা নিয়ে চলতে থাকা জল্পনার জবাবে রণজয় জোর দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁদের বিয়ে কীভাবে হয়েছে এবং আসল সত্যিটা কী, তা সবচেয়ে ভালো জানেন দুই পরিবারের সদস্যরা। তিনি নিজে, শ্যামৌপ্তি এবং তাঁর শ্বশুরমশাইও গোটা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত।
অভিনেতার বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের সত্যতা না জেনে বাইরে থেকে নানা অনুমান বা দাবি ছড়িয়ে দেওয়াটা অনুচিত। বিশেষ করে প্রমাণ ছাড়া এত বড় বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা বা কোনও মানুষকে কেন্দ্র করে বিরূপ ধারণা তৈরি করা নিয়েই তাঁর আপত্তি।
দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর তাই রণজয়ের এই ভিডিয়োবার্তা কার্যত তাঁদের সংসার নিয়ে চলতে থাকা জল্পনারই জবাব। সরাসরি নানা গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে তিনি যেভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তাতে স্পষ্ট— ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ক্রমাগত চর্চা এবং অনুমান তাঁদের দুজনকেই মানসিকভাবে নাড়া দিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত অনুরাগী এবং সাধারণ মানুষের কাছে একটাই আবেদন জানিয়েছেন রণজয়— অযথা গুঞ্জন ছড়িয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে অনধিকার চর্চা না করতে। তাঁদের বিয়ে, সম্পর্ক কিংবা আর্থিক বিষয় নিয়ে প্রকৃত সত্য না জেনে মন্তব্য থেকে বিরত থাকারই অনুরোধ জানিয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা।


