সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের হাই স্কুল পড়ুয়াদের জন্য ব্রডওয়ের মতো বিখ্যাত থিয়েটার শো দেখার বিনামূল্যে টিকিট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে এই ঘোষণার চেয়েও যে বিষয়টি বেশি নজর কেড়েছে, তা হলো—পুরো ভিডিও বার্তাটি তিনি দিয়েছেন একেবারে স্পষ্ট বাংলায়। মেয়রের বাংলায় দেওয়া সেই ভিডিও বার্তা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য ২ হাজার ফ্রি টিকিট
নিউ ইয়র্কের হাই স্কুল পড়ুয়াদের জন্য মোট ২ হাজারটি বিনামূল্যের ব্রডওয়ে টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। থিয়েটার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে লটারির মাধ্যমে এসব টিকিট শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
লটারিতে বিজয়ী শিক্ষার্থীরা বিশ্বখ্যাত ব্রডওয়ের মোট সাতটি আকর্ষণীয় শো বিনামূল্যে উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। ফলে যেসব শিক্ষার্থীর জন্য সাধারণভাবে ব্রডওয়ের শো দেখা ব্যয়সাপেক্ষ, তারাও এবার সরাসরি এই সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার অংশ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
ব্রডওয়ের শোগুলোর টিকিটের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে সবসময় তা কেনা সহজ হয় না। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নিউ ইয়র্কের নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আরও পরিচিত করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু ফ্রি টিকিট নয়, অন্যান্য শোর টিকিট কেনার ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কেন বাংলায় কথা বললেন জোহরান?
মেয়রের বাংলা ভাষায় দেওয়া ভিডিও বার্তাই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিউ ইয়র্কে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ও বাংলাভাষী অভিবাসী বসবাস করেন। বিশেষ করে ব্রঙ্কস এলাকার পার্কচেস্টার ও ওয়েস্টচেস্টার স্কোয়ারের মতো এলাকায় বাঙালি জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
মেয়র নির্বাচনের সময় এসব এলাকা থেকে বিপুল ভোট পেয়েছিলেন জোহরান মামদানি। নিজের বাংলাভাষী সমর্থক এবং অভিবাসীদের প্রতি ভালোবাসা ও সংযোগের জায়গা থেকেই তিনি ভিডিও বার্তাটি বাংলায় দিয়েছেন বলে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
বাংলায় তার সাবলীল বক্তব্য তাই শুধু একটি ঘোষণাকেই সামনে আনেনি; নিউ ইয়র্কের বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজের সঙ্গেও তার রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগের বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
উল্লেখ্য, বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির ছেলে জোহরান মামদানি একাধিক ভাষায় দক্ষ। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বাংলা, হিন্দি ও উর্দু ভাষায় কথা বলতে দেখা গেছে তাকে। বহুভাষায় যোগাযোগের এই সক্ষমতা দিয়েই তিনি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করেছেন এবং সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছেন।


