বলিউডের শাহেনশাহখ্যাত অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bachchan)-এর ছেলে অভিষেক বচ্চন (Abhishek Bachchan)। ২০০০ সালে ‘রিফিউজি’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে নিজের পথচলা শুরু করেন তিনি। সিনেমাটির মূল শুটিং হয়েছিল গুজরাটের কচ্ছ এলাকায়। অভিনয়জীবনের সেই শুরুর স্মৃতির পাশাপাশি ভারতের জয়পুর (Jaipur) শহরের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে তার গভীর ব্যক্তিগত আবেগ। ‘রিফিউজি’র কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশের শুটিং হয়েছিল জয়পুর এবং মুম্বাইয়ের একটি স্টুডিওতে।
শুধু ক্যারিয়ারের শুরুর স্মৃতিই নয়, অভিষেকের ব্যক্তিগত জীবনেও জয়পুরের রয়েছে বিশেষ জায়গা। তারকা দম্পতি অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন (Aishwarya Rai Bachchan)-এর প্রেমের গল্পের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে এই শহর। কারণ জয়পুরেই তাদের সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল।
২০০৬ সালে ‘উমরাও জান’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সময় অভিষেক ও ঐশ্বরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। সিনেমাটির কিছু অংশের শুটিংও হয়েছিল জয়পুরে। ফলে পেশাগত জীবনের স্মৃতি থেকে ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—দুই ক্ষেত্রেই শহরটি অভিষেকের কাছে আলাদা তাৎপর্য বহন করে।
এর কয়েক বছর পর জয়পুরের সঙ্গে অভিষেকের সম্পর্ক নতুন এক মাত্রা পায়। ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো ব্যবসায়ীর ভূমিকায় নামেন তিনি। প্রো-কাবাডি লিগের প্রথম মৌসুম শুরুর আগে জয়পুরের দল কিনে নেন এই অভিনেতা।
কিন্তু ভারতের এত শহর থাকতে দল কেনার ক্ষেত্রে জয়পুরকেই কেন বেছে নিয়েছিলেন অভিষেক? সম্প্রতি একটি পডকাস্টে সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। অভিনেতা জানান, তার প্রথম সিনেমার একটি অংশের শুটিং হয়েছিল জয়পুরে। সে কারণেই জীবনে নতুন কোনো কিছু শুরু করার ক্ষেত্রে শহরটিকে নিজের জন্য ‘শুভ’ বলে মনে হয় তার।
শহর নির্বাচনের ক্ষেত্রেই অবশ্য পরিবারের স্মৃতি থামেনি। কাবাডি দলের নামকরণের মধ্যেও ছিল পরিবারের সরাসরি ছোঁয়া। অভিষেকের দলের নাম ‘জয়পুর পিংক প্যান্থার্স’ (Jaipur Pink Panthers)। এই নাম বেছে নেওয়ার পেছনেও রয়েছে ব্যক্তিগত একটি গল্প।
সেই সময়ে অভিষেকের মেয়ে আরাধ্যা বচ্চন (Aaradhya Bachchan)-এর সবচেয়ে পছন্দের রঙ ছিল গোলাপি। মেয়ের সেই পছন্দের কথা মাথায় রেখেই নিজের দলের নামের সঙ্গে ‘পিংক’ শব্দটি যুক্ত করেছিলেন অভিষেক। ২০১১ সালে অভিষেক ও ঐশ্বরিয়ার কন্যা আরাধ্যার জন্ম হয়।
অভিষেক ও ঐশ্বরিয়ার একসঙ্গে কাজ করার ইতিহাস অবশ্য ‘উমরাও জান’-এরও আগের। ২০০০ সালে ‘ঢাই অক্ষর প্রেম কে’ সিনেমায় প্রথমবার একসঙ্গে পর্দায় দেখা যায় তাদের। অভিষেকের প্রথম সিনেমা ‘রিফিউজি’ মুক্তির কয়েক মাসের মধ্যেই মুক্তি পেয়েছিল ছবিটি।
এরপর ২০০৩ সালে ‘কুছ না কহো’ সিনেমায় আবারও জুটি বাঁধেন অভিষেক ও ঐশ্বরিয়া। দুই বছর পর, ২০০৫ সালে ‘বান্টি অউর বাবলি’ সিনেমার বহুল জনপ্রিয় নাচের গান ‘কাজরা রে’-তে একসঙ্গে দেখা যায় তাদের। সেখানে তাদের সঙ্গে ছিলেন অভিষেকের বাবা ও বর্ষীয়ান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনও।
‘উমরাও জান’-এর পর ২০০৬ সালে ‘ধুম ২’ সিনেমাতেও একসঙ্গে অভিনয় করেন অভিষেক ও ঐশ্বরিয়া। এরপর মণি রত্নমের ‘গুরু’ সিনেমায় ফের জুটি বাঁধেন তারা। সিনেমাটি মুক্তির আগে প্রকাশ্যে আসে তাদের বাগদানের খবর। একই বছর বিয়ে করেন অভিষেক ও ঐশ্বরিয়া।
জয়পুর তাই অভিষেকের কাছে কেবল একটি শহরের নাম নয়। বলিউডে যাত্রার শুরুর স্মৃতি, ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং পরে ব্যবসায়ী হিসেবে নতুন পথচলা—তিন ক্ষেত্রেই কোনো না কোনোভাবে ফিরে এসেছে এই শহর। আর সেই আবেগ থেকেই প্রো-কাবাডি লিগে নিজের দল গড়তে গিয়ে জয়পুরকে বেছে নিয়েছিলেন তিনি।
দলের নামেও রেখেছিলেন পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্যের পছন্দের ছাপ। কন্যা আরাধ্যার প্রিয় রঙ গোলাপি হওয়ায় দলের নাম হয় ‘জয়পুর পিংক প্যান্থার্স’।
উল্লেখ্য, দাম্পত্য জীবনের ১৯ বছর পার করেছেন অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। স্ত্রীকে নিজের ‘আত্মার সঙ্গী’ বলেও উল্লেখ করেছেন অভিষেক। তাদের দাম্পত্য সম্পর্কের অন্যতম রহস্য নিয়ে মজার ছলে পরামর্শও দিয়েছেন অভিনেতা। তার ভাষায়, প্রতিদিন স্ত্রীকে তিনবার ‘সরি’ বলাই সেই কৌশল।


