২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাজায় ইসরাইলের হামলায় ৭৩ হাজার ৪৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৪০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষ চাপা পড়ে আছেন বলে জানানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও গাজা সরকারি তথ্য কার্যালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা (Al Jazeera) সম্প্রতি এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা গাজার মোট জনসংখ্যার প্রতি ৩৩ জনের মধ্যে একজন। অর্থাৎ, গাজার জনসংখ্যার একটি বড় অংশই ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছে। অন্যদিকে, চলমান হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৪০ জন। হিসাব অনুযায়ী, গাজার প্রতি ১৪ জন বাসিন্দার মধ্যে একজন আহত হয়েছেন।
আহতদের অনেকের শরীরে দেখা দিয়েছে স্থায়ী কিংবা জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো গুরুতর আঘাত। ফলে প্রাণহানির পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষের শারীরিক ক্ষত ও দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগও গাজার মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে।
তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পরও প্রাণহানি
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ঘোষিত তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতির’ পরও গাজায় ইসরাইলি হামলা পুরোপুরি থামেনি। ওই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেও নতুন করে অন্তত ১ হাজার ৩৩৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৪ হাজার ৪২৯ জন।
অর্থাৎ, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও গাজাবাসীর জন্য সহিংসতা ও প্রাণহানির বাস্তবতা পুরোপুরি বদলায়নি। নতুন করে হতাহত হওয়ার এই সংখ্যা সেই পরিস্থিতিরই চিত্র তুলে ধরছে।
গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে গাজা সিটি, দেইর আল-বালাহ, খান ইউনিস ও রাফাহ পর্যন্ত পুরো উপত্যকাজুড়ে অবরুদ্ধ সাধারণ ফিলিস্তিনিরা লাগাতার বিমান ও স্থল হামলার মুখে রয়েছেন। একদিকে হামলা, অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে গাজার মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বিপুল প্রাণহানি, লাখো মানুষের আহত হওয়া এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষের চাপা পড়ে থাকার তথ্য সেই সংকটের গভীরতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।


