গাংনীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির পাশে তিন টাইম বোমা বিস্ফোরণ, এলাকায় আতঙ্ক

মেহেরপুরের গাংনী (Gangni) উপজেলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পৃথক দুটি সমাবেশের কাছাকাছি এলাকায় তিনটি টাইম বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা শহরের পৃথক স্থানে বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিস্ফোরণের পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, উপজেলার হাসানের চায়ের দোকানের পাশে পরপর দুটি এবং বাঁশবাড়িয়া আনসার-ভিডিপি ক্লাবের ওপরে একটি টাইম বোমা বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের একটি স্থান থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরেই ছিল গাংনী উপজেলা ও পৌর বিএনপি (Gangni Upazila and Municipal BNP) কার্যালয়। আর বাঁশবাড়িয়ায় যে স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে, তার পাশেই বিএনপির একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে ঘিরে যখন নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রস্তুতি চলছিল, তখনই বিস্ফোরণের শব্দে পরিস্থিতিতে আকস্মিক উত্তেজনা তৈরি হয়।

গাংনী পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডাম সুমন (Adam Sumon) জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার বিভিন্ন কর্মসূচি ছিল। এ কারণে কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিএনপি কার্যালয়ের কাছাকাছি একটি চায়ের দোকানের পাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে দুটি টাইম বোমা বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

অ্যাডাম সুমন বলেন, বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে এমন ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি বানচাল করার উদ্দেশ্যেই ঘটনাটি ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, হঠাৎ করেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাদের ধারণা, বিস্ফোরণের স্থানে থাকা একটি গাছের মধ্যে টাইম বোমা রাখা হয়েছিল। পরে সেখান থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে।

গাংনী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল (Abdul Awal) বলেন, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তাদের অনুষ্ঠান ছিল। এ সময় তারা বিএনপি কার্যালয়ে বসে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে টাইম বোমা বিস্ফোরণের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দুটি টিনের টুকরা ও একটি ব্যাটারি পড়ে থাকতে দেখা যায়।

তিনি বলেন, তাদের অনুষ্ঠান বানচাল করার উদ্দেশ্যে কে বা কারা এসব বিস্ফোরক রেখে গেছে, তা দ্রুত শনাক্ত করা প্রয়োজন। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে গাংনী থানার তদন্ত কর্মকর্তা শিমুল কুমার দাস (Shimul Kumar Das) বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরণের পর পড়ে থাকা আলামত উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।