প্রত্যাশার ধাক্কায় ‘টক্সিক’, ওটিটি স্বত্বের প্রস্তাবও নেমে এলো ৩০ কোটির ঘরে

বড় পর্দায় প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া ফেলতে পারেনি ইয়াশ অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’। এবার ছবিটির ওটিটি স্বত্ব নিয়েও সামনে এসেছে হতাশাজনক খবর। মুক্তির আগে পোস্ট-থিয়েট্রিক্যাল স্ট্রিমিং স্বত্বের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকার প্রস্তাব পেয়েছিল সিনেমাটি। কিন্তু বর্তমানে ছবিটির জন্য সর্বোচ্চ প্রায় ৩০ কোটি টাকার কাছাকাছি প্রস্তাব পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে। যদিও এখনো কোনো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।

‘কেজিএফ’ সিরিজের পর ইয়াশের নতুন সিনেমা হিসেবে শুরু থেকেই ‘টক্সিক’ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। গীতু মোহনদাস (Geetu Mohandas) পরিচালিত সিনেমাটিতে ইয়াশের সঙ্গে অভিনয় করেছেন নয়নতারা, কিয়ারা আদভানি, তারা সুতারিয়া ও হুমা কুরেশি। বড় বাজেটের এই গ্যাংস্টারধর্মী সিনেমাটি মুক্তির আগেই দর্শক ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে তৈরি করেছিল ব্যাপক প্রত্যাশা।

মুক্তির আগেই বড় প্রস্তাব

জানা গেছে, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই একটি বড় স্ট্রিমিং সংস্থা ‘টক্সিক’-এর সব ভাষার পোস্ট-থিয়েট্রিক্যাল ডিজিটাল স্বত্ব কিনতে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা দিতে আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু নির্মাতারা সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। তাদের লক্ষ্য ছিল আরও বড় অঙ্কে, অর্থাৎ ২০০ কোটির বেশি টাকায় ডিজিটাল স্বত্ব বিক্রি করা।

নির্মাতাদের এমন উচ্চ প্রত্যাশার পেছনে ছিল ছবিটির সম্ভাব্য বক্স অফিস সাফল্য নিয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস। ইয়াশের আগের সিনেমাগুলোর জনপ্রিয়তা এবং ‘কেজিএফ’ ব্র্যান্ডের ব্যাপক প্রভাব বিবেচনায় ‘টক্সিক’ প্রেক্ষাগৃহে বড় অঙ্কের ব্যবসা করবে—এমনটাই ধারণা করা হয়েছিল। সেই সম্ভাব্য সাফল্যকে ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে আরও বেশি দামে ওটিটি স্বত্ব বিক্রি করা সম্ভব হবে বলেই প্রত্যাশা ছিল।

কিন্তু মুক্তির পর বাস্তব চিত্র বদলে যায়। প্রথম দিন অবশ্য শক্তিশালী সূচনা করেছিল ‘টক্সিক’। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে সব ভাষা মিলিয়ে মুক্তির প্রথম দিনে সিনেমাটির নেট আয় ছিল প্রায় ১০১ কোটি ১০ লাখ টাকা। তবে পরবর্তী সময়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায় ছবিটির দৈনিক আয় দ্রুত কমতে শুরু করে।

বক্স অফিসের হিসাবও প্রত্যাশা পূরণ করেনি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির ১২ দিন পর ভারতে ‘টক্সিক’-এর মোট নেট সংগ্রহ দাঁড়ায় প্রায় ২৪৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ফলে সিনেমাটির ডিজিটাল স্বত্বের মূল্য নিয়ে নির্মাতাদের যে উচ্চ প্রত্যাশা ছিল, বক্স অফিসের বাস্তব ফলাফল তা অনেকটাই বদলে দিয়েছে।

এর সরাসরি প্রভাব এখন পড়ছে ওটিটি স্বত্বের বাজারে। জানা যাচ্ছে, বর্তমানে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘টক্সিক’-এর সব ভাষার পোস্ট-থিয়েট্রিক্যাল স্ট্রিমিং স্বত্ব কিনতে সর্বোচ্চ প্রায় ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। অর্থাৎ মুক্তির আগে পাওয়া প্রায় ১৫০ কোটি টাকার প্রস্তাবের তুলনায় বর্তমান সর্বোচ্চ প্রস্তাব নেমে এসেছে প্রায় এক-পঞ্চমাংশে।

এই দৌড়ে এখন পর্যন্ত জি-ফাইভ (ZEE5) এগিয়ে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে নির্মাতাদের চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফলে বড় পর্দায় প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার পর ‘টক্সিক’-এর ওটিটি স্বত্ব শেষ পর্যন্ত কত টাকায় বিক্রি হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। মুক্তির আগে যেখানে ১৫০ কোটি টাকার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, সেখানে বর্তমান বাজারদর কতটা নিচে নেমে আসে—সিনেমাটির বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সেই হিসাবই এখন নতুন করে আলোচনায়।

সূত্র: দ্য ওয়াল