মধ্যপ্রাচ্যে ‘হেক্সাগন’ জোটের ঘোষণা, ভারতকে প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন আঞ্চলিক জোট গড়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যা মূলত ‘উগ্রবাদী শক্তি’র বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করবে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র আসন্ন ইসরাইল সফরকে কেন্দ্র করে এই ঘোষণা দেন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহু এই জোটকে ‘হেক্সাগন’ বা ষড়ভুজাকৃতির হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে ভারতকে প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখানো হয়েছে। তার মতে, জোটটি মূলত দুইটি শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করবে—একটি হলো ইরান-নেতৃত্বাধীন শিয়া অক্ষ এবং অন্যটি হলো বর্তমানে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা উগ্র সুন্নি অক্ষ।

নেতানিয়াহু আরও জানান, ভারতের পাশাপাশি গ্রিস, সাইপ্রাস এবং এশিয়া, আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের আরও কিছু দেশ এই জোটের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা ইসরাইলের সঙ্গে সমমনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই উদ্যোগের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বার্তায় বলেন, ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে উদ্ভাবন, বিশ্বাস ও অগ্রগতির যে মজবুত বন্ধন রয়েছে, ভারত তা অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, গাজা যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরাইল ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর শক্তি কমিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে আসছে, এবং এই নতুন জোট সেই কৌশলকে আরও বিস্তৃত করবে। তবে নেতানিয়াহুর ‘উগ্র সুন্নি অক্ষ’ বলতে ঠিক কাদের বোঝাচ্ছেন তা স্পষ্ট নয়; এর আগে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডকে প্রধান শত্রু হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো বড় সুন্নি দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞের কারণে সৌদি আরব ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহ’\ত্যার অভিযোগ তুলেছে এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ডের মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াও এখন হুমকির মুখে।

এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নেতানিয়াহু ভারত ও অন্যান্য মিত্রদের নিয়ে নতুন ‘হেক্সাগন’ জোটের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।