হরমুজ প্রণালী বন্ধ, তেল-গ্যাসের দামে ঊর্ধ্বগতি—বিশ্ব বাণিজ্যে গভীর শঙ্কা

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি স্পষ্ট হুমকি দিয়েছে—হরমুজ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করলে তা আক্রমণের শিকার হবে। এমন ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে শুরু করেছে, আর বিশ্ব বাণিজ্যে তৈরি হয়েছে নতুন করে অনিশ্চয়তা।

এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি পরিবহন খাতে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে তেল পরিবহনের জন্য একটি সুপারট্যাংকারের ভাড়া সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (London Stock Exchange Group) জানিয়েছে, ওই ভাড়া চার লাখ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল বহনে সক্ষম বৃহত্তম তেলবাহী জাহাজগুলোকে এখন এই রেকর্ড পরিমাণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছিল, তখনকার তুলনায় বর্তমান ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ।

উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ইরান এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দেওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য রপ্তানির প্রধান পথই হলো এই প্রণালী। সৌদি আরব (Saudi Arabia), ইরান (Iran), ইরাক (Iraq) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (United Arab Emirates) এই পথ ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তেল পাঠায়। প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে।

বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ ডলারে পৌঁছেছে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস (Goldman Sachs)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রণালী অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও সরবরাহ শৃঙ্খলেও নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।