র‍্যাপার থেকে রাজনীতিতে—নেপালের নির্বাচনে এগিয়ে বালেন্দ্র শাহ, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জোর সম্ভাবনা

নেপালের সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনা এখনো শেষ হয়নি। তবে প্রাথমিক ফলাফলে র‍্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা বালেন্দ্র শাহ (Balen Shah) উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় তাকে ঘিরে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি জানিয়েছে বিবিসি (BBC)।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন কয়েকজন শক্তিশালী প্রার্থীর সঙ্গে। তাদের মধ্যে ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল)-এর সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি (KP Sharma Oli) এবং নেপালি কংগ্রেস (Nepali Congress)-এর নেতা গগন থাপা।

শনিবার (৭ মার্চ) সকাল পর্যন্ত যে ভোট গণনা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে শাহের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (Rastriya Swatantra Party – RSP) ১৬৫টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি জায়গায় এগিয়ে রয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি নেপালি।

বর্তমান অবস্থানে নেপালি কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও অনেক ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে ইউএমএল তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ পেতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। পাহাড়ি দেশ নেপালে ভোট গণনা ঐতিহ্যগতভাবেই ধীরগতিতে হয়। অনেক সময় দূরবর্তী অঞ্চল থেকে ব্যালট সংগ্রহ করতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে হয়, যার কারণে চূড়ান্ত ফল জানতে বিলম্ব ঘটে।

এর আগে ২০২২ সালের সর্বশেষ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ হতে দুই সপ্তাহের বেশি সময় লেগেছিল।

বালেন্দ্র শাহ কে

৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ স্থানীয়ভাবে ‘বালেন’ নামেই বেশি পরিচিত। অবকাঠামো প্রকৌশলী হিসেবে প্রশিক্ষণ নেওয়া এই নেতা কয়েক বছর ধরে নেপালের হিপ হপ অঙ্গন ‘নেফপ’-এ সক্রিয় ছিলেন।

তিনি বেশ কয়েকটি গান প্রকাশ করেছেন, যেগুলোর বেশিরভাগই সামাজিক বার্তাধর্মী। তার অন্যতম পরিচিত গান “Balidan”, যার অর্থ ‘ত্যাগ’। গানটি ইউটিউবে মিলিয়ন ভিউ পেয়েছে।

গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, পরে যা দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার বিরুদ্ধে জনরোষে পরিণত হয়—সেই সময় তরুণদের মধ্যে শাহের জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়।

সে সময় সংঘর্ষে ৭৭ জন নি’\হত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে অনেকেই পুলিশের গু’\লিতে নি’\হত হন। এই পরিস্থিতির পর নেপালের তৎকালীন নেতা কেপি শর্মা ওলিকে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। তবে ৭৪ বছর বয়সী ওলি এবারও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।

বালেন্দ্র শাহ প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি কেপি ওলিকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি দেশের সঙ্গে বেইমানি করেছেন।

এ ধরনের মন্তব্যের কারণে অনেক সমালোচক প্রশ্ন তুলেছেন—দেশ পরিচালনার জন্য তিনি কতটা প্রস্তুত।

এর আগে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শহরের সড়ক পরিষ্কার রাখা এবং অবৈধ ব্যবসা দমনে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। রাস্তার হকার ও ভূমিহীন মানুষের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখেও পড়েন তিনি।

এসব বিষয়ে বালেন্দ্র শাহের প্রচারণা টিমের সদস্যরা বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।

এ নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কেপি ওলির একই আসন ঝাপা-৫ থেকে, যা দীর্ঘদিন ধরেই ওলির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সেখানে শাহ উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।

প্রচারণা চলাকালে তিনি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়া এড়িয়ে গেছেন। এমনকি নির্বাচনের দিনও সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। সেদিন কালো সানগ্লাস পরে সাংবাদিকদের ভিড় পেরিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন তিনি।

নেপালের গণমাধ্যম আশঙ্কা করছে, ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে তার দূরত্ব বজায় থাকতে পারে। তবে বিবিসির সঙ্গে কথা বলা বহু তরুণ ভোটার বলছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তারুণ্য ও নতুন উদ্যমই প্রয়োজন—আর সেই পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেই তারা বালেন্দ্র শাহকে দেখছেন।