ভারত সীমান্ত ঘিরে চোরাই পথে দেশে ঢুকছে জীবনঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র—যা পরে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অবৈধ পথে আসা এসব অস্ত্র অনেক সময় নাশকতার কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে। আগে মাদক পরিবহনে নারীদের ব্যবহার করা হলেও এখন অস্ত্র বহনের ক্ষেত্রেও একই কৌশল নিচ্ছে চোরাকারবারি চক্র।
শনিবার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি অভিযানে সন্দেহভাজন এক নারীকে তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গু’\লির চালান উদ্ধারের পর এসব তথ্য জানায় পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা বিভাগ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৯৬ রাউন্ড গু’\লি সহ সুরাইয়া পারভীন সুমি নামের এক নারীকে আটক করা হয়েছে। শনিবার সকালে খুলনা (Khulna) মহানগরীর লবনচরা (Labonchora) থানার খুলনা–সাতক্ষীরা (Satkhira) সড়কের নিজ খামার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আটক সুরাইয়া পারভীন সুমি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাসিন্দা মো. আশরাফ উদ্দিনের মেয়ে। তার কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, দুটি রিভলভার, চারটি ম্যাগজিন এবং ৯৬ রাউন্ড গু’\লি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এসকে ইফতেখার মোহাম্মদ উমায়ের (SK Iftekhar Mohammad Umair) জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে সাতক্ষীরা থেকে খুলনা হয়ে ঢাকায় মাদকের একটি চালান যাচ্ছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা যৌথভাবে নিজ খামার এলাকায় তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের শুরুতেই দুজন নারীর কাছ থেকে কোডিন ফসফেটযুক্ত ৮০ বোতল নেশাজাতীয় দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পরে আরেকটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অন্য এক নারীর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গু’\লি উদ্ধার করা হয়।
লবনচরা থানা (Labonchora Police Station)-এর ওসি তুহিনুজ্জামান জানান, সাতক্ষীরা থেকে খুলনা হয়ে ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ওই নারীকে অস্ত্র ও গু’\লি সহ আটক করা হয়।
এদিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (Khulna Metropolitan Police)-এর উপ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো ভারত থেকে এসেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতেও একই ধরনের পদ্ধতিতে অস্ত্রের চালান দেশে ঢোকার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, এসব অস্ত্র সাধারণত সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা দিয়ে খুলনায় এসে পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ত এবং অনেক সময় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতো।
তাজুল ইসলাম আরও জানান, আটক নারীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। অস্ত্রগুলো কে তাকে দিয়েছে এবং সেগুলো কোথায় পাঠানো হচ্ছিল—এসব তথ্যের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।


