মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাবন্দি এক আওয়ামী লীগ নেতাকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ড ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন আমিনুল ইসলাম (Aminul Islam), যিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সোমবার তিনি জানান, ফাঁস হওয়া অডিওটির সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনা করা হবে। অভিযোগ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক প্রসিকিউটর কারাবন্দি এক আওয়ামী লীগ নেতাকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেছেন।
এদিকে, যার বিরুদ্ধে এই ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে—মো. সাইমুম রেজা তালুকদার—তিনি আর প্রসিকিউশন টিমে নেই। তিনদিন আগেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। সোমবার সরকার তার সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মো. সাইমুম রেজা তালুকদার (Md. Saimum Reza Talukder)। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “সরকার যদি আইনি প্রক্রিয়ায় যায়, তাহলে আমরা সেটি ফেইস করবো।”
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মামলাটি চট্টগ্রাম-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী (ABM Fazle Karim Chowdhury)-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাটি বর্তমানে তদন্ত শেষের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য অপেক্ষমান তালিকায় রয়েছে।
অর্থাৎ মামলাটি এখনো অভিযোগ গঠন পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ঠিক এই সময়েই সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার মতো গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রসিকিউটর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই দায়িত্বে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তিনি আইনজীবী হিসেবে সনদপ্রাপ্ত হলেও এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতেন। সেখান থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমে যোগ দেন।
এই ধরনের বিতর্ক অবশ্য ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে একেবারেই নতুন নয়। এর আগে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলাকালে তৎকালীন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ (Turin Afroz)-এর বিরুদ্ধে গোপনে এক আসামির সঙ্গে দেখা করার অভিযোগ উঠেছিল। পরে সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Crimes Tribunal) গঠন করা হয়েছিল ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে, মূলত একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার উদ্দেশ্যে।
পরবর্তীতে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর একই ট্রাইব্যুনালে চব্বিশের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচার কার্যক্রমও শুরু হয়। এখন পর্যন্ত এই ট্রাইব্যুনালে তিনটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।


