যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিতে মার্কিন বি–১ বোমারু বিমান, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে সরে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র—বলছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক

যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বি–১ বোমারু বিমান অবতরণ করেছে। এই ঘাঁটিটি দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন বিমানবাহিনীর বোমারু বিমান মোতায়েনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এখানকার তৎপরতা আবারও বাড়তে শুরু করেছে।

এর আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার (Keir Starmer) যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেন। লন্ডনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ঘিরে এসব ঘাঁটি প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের অংশ হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধের কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অবস্থান এক নাও হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে বিশ্লেষকদের আলোচনায়।

লন্ডনের কিংস কলেজ (King’s College London)-এর নিরাপত্তাবিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে কতদিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে—সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দৃষ্টিভঙ্গি এক নাও থাকতে পারে।

ক্রিগের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তার লাভ ততই কমে যাবে। তিনি বলেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সুবিধা কমতে থাকবে।

অন্যদিকে ইসরাইলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। ক্রিগের মতে, ইসরাইল এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তুলনামূলকভাবে বেশি দৃঢ় মানসিকতা দেখাতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যখন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেবে কিন্তু ইসরাইল আরও কিছু সময় লড়াই চালিয়ে যেতে চাইবে।

তার ভাষায়, এই প্রেক্ষাপটে কোনো এক পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) নিজেই যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তিনি মনে করেন, ট্রাম্প দ্রুত সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে আগ্রহী বলেই বিভিন্ন বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ক্রিগ আরও বলেন, ইসরাইল সহজে ‘মিশন সম্পন্ন’ ঘোষণা করবে না। কারণ তাদের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে আরও কিছু সময় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।

এদিকে সংঘাতের উত্তাপ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইসরাইলকে লক্ষ্য করে নতুন করে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। দীর্ঘ সময় হামলা বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১২টার দিকে তেহরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

এই হামলার প্রভাবে ইসরাইলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিব ও আশপাশের এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়।