স্পিন চ্যালেঞ্জে নতুন প্রযুক্তি, ‘মারলিন বাই বোলা’ মেশিন আনলো বিসিবি

উপমহাদেশের উইকেট বরাবরই স্পিনসহায়ক হওয়ায় ব্যাটারদের জন্য স্পিন মোকাবিলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অথচ এই অঞ্চলে স্পিন বোলিং মেশিন ব্যবহারের নজির খুব একটা নেই। সেই বাস্তবতা বদলাতে এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আধুনিক স্পিন বোলিং মেশিন ‘মারলিন বাই বোলা’ দেশে নিয়ে এসেছে।

বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস বিভাগের ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফিস (Shahriar Nafees) জানিয়েছেন, কর ছাড়া এই মেশিনটি আনতে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড খরচ হয়েছে। মূল লক্ষ্য—দেশের ব্যাটারদের স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে আরও দক্ষ করে তোলা।

‘মারলিন বাই বোলা’ মেশিনটি প্রথম ব্যবহার করা হয় ২০০৬ সালে ইংল্যান্ডে। এরপর ধীরে ধীরে এটি জায়গা করে নেয় অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ক্রিকেট পরাশক্তির অনুশীলন ব্যবস্থায়। শুরুর দিকে কিছু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)-এর তত্ত্বাবধানে তা উন্নত করা হয়। হেনরি প্রিয়র এবং ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্টুয়ার্ট অ্যান্ড উইলিয়ামসের মাধ্যমে মেশিনটি আধুনিক রূপ পায়।

এই মেশিনের অন্যতম বিশেষত্ব হচ্ছে—এটি দিয়ে অফ স্পিন, লেগ স্পিন এবং সোজা বলসহ বিভিন্ন ধরনের ডেলিভারি অনুশীলন করা যায়। শাহরিয়ার নাফিস ব্যাখ্যা করে বলেন, ডানহাতি ব্যাটারের জন্য অফ স্পিন যেমন কাজ করে, বাঁহাতি বোলারের ক্ষেত্রে তা চায়নাম্যান ডেলিভারিতে রূপ নেয়। একইভাবে লেগ স্পিন ও অফ স্পিনের ভিন্ন ভিন্ন ভ্যারিয়েশনও অনুশীলন করা সম্ভব।

তিনি আরও জানান, এই মেশিন দিয়ে ‘আর্মার’ বলও অনুশীলন করা যায়, যা অনেক সময় ব্যাটারদের জন্য চমক তৈরি করে। শুধু বলের ধরনই নয়, লেন্থও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা সম্ভব—যা ব্যাটারদের বাস্তব ম্যাচ পরিস্থিতির মতো প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করবে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রযুক্তির সংযোজন বাংলাদেশের ব্যাটারদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মানসম্পন্ন স্পিন বোলিং মোকাবিলায় এটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।