ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তফসিল প্রকাশ করা হয়।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ এপ্রিল। এরপর ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ এপ্রিল, আর আপিল দায়েরের সুযোগ থাকবে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।
এই নির্বাচনে দলভিত্তিক আসন বণ্টনের হিসাবও স্পষ্ট করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) জোট পাবে ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami) জোট পাবে ১৩টি আসন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে একটি আসন।
এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ভোট স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি বগুড়া-৬ আসনে আসন শূন্য হওয়ায় উপনির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনে আইনি জটিলতার কারণে ফলাফল এখনো ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন—যা পুরো নির্বাচনী চিত্রকে কিছুটা অসম্পূর্ণ রেখেছে।
সংসদের বর্তমান গঠন অনুযায়ী, বিএনপির প্রতিনিধিত্ব রয়েছে ২০৮ জনের। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami)-এর সদস্য সংখ্যা ৬৮। এছাড়া অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে এনসিপির ৬ জন প্রতিনিধি রয়েছে।
ক্ষুদ্র দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (Bangladesh Khelafat Majlis) পেয়েছে ২টি আসন। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন এবং খেলাফত মজলিস—প্রতিটি দল পেয়েছে একটি করে আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও পেয়েছেন ৭টি আসন।
সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুসরণ করা হয়। কোনো দল সংসদে যতগুলো সাধারণ আসন পায়, সেই সংখ্যাকে ৫০ দিয়ে গুণ করে প্রাপ্ত ফলাফলকে ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে যে সংখ্যা দাঁড়ায়, সেটিই ওই দলের প্রাপ্য সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা হিসেবে নির্ধারিত হয়।
