সমালোচনার ঝড় পেরিয়ে রোনালদোর জোড়া গোলে উজবেকিস্তান বিধ্বস্ত, বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের দাপুটে জয়ের রাতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (Cristiano Ronaldo)। ম্যাচে জোড়া গোল করে শুধু পর্তুগাল (Portugal)-কে বড় জয় এনে দেননি, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও গড়েছেন এক অনন্য রেকর্ড। ম্যাচ শেষে তিনি খোলামেলাভাবে কথা বলেছেন নিজের কঠিন সময়, সমালোচনার চাপ এবং সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে।

হিউস্টন (Houston)-এ অনুষ্ঠিত ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় পর্তুগাল। উজবেকিস্তানকে কার্যত কোনো সুযোগ না দিয়ে একতরফা ম্যাচে ৫-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা। দলের হয়ে জোড়া গোল করেন রোনালদো। এছাড়া একটি গোল করেন নুনো মেন্দেস (Nuno Mendes), আরেকটি আসে আত্মঘাতী গোল থেকে। ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে স্কোরলাইন ৫-০ করেন রাফায়েল লেয়াও (Rafael Leao)।

ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রোনালদো বলেন, “আমরা জানতাম এই সপ্তাহে এমন কিছু ঘটবে। তবে দল খুব ভালোভাবে কাজ করেছে এবং আমরা অনেক উন্নতি করেছি। একটি প্রবাদ আছে—প্রতিটি কালো মেঘেরই রুপালি দিক থাকে। ব্যক্তিগতভাবে রেকর্ড ভাঙতে সবসময়ই ভালো লাগে, কিন্তু আমার প্রধান লক্ষ্য জাতীয় দলকে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করা। এই পর্যায়ে আমাদের লক্ষ্য ছিল গ্রুপ পর্ব পেরোনো। আমার বিশ্বাস, চার পয়েন্ট নিয়েই আমরা পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছি। আমি খুবই খুশি।”

৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জানান, কঠিন সময়ের মধ্যেও তিনি কখনো নিজের ওপর আস্থা হারাননি।

রোনালদো বলেন, “আমি জানতাম এটা হবে। ঈশ্বর তাদেরই সাহায্য করেন, যারা কঠোর পরিশ্রম করে। আমি জানতাম আমার সতীর্থরাও আমাকে সাহায্য করবে। এটি ছিল খুব কঠিন একটি সপ্তাহ, একেবারে অন্ধকার একটি সপ্তাহ। এমনও মনে হচ্ছিল, যেন আমি ইতোমধ্যেই ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছি! কিন্তু আমি টিকে ছিলাম, যেমনটা সবসময় থাকি। কারণ আমি অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে কঠোর পরিশ্রমে বেশি বিশ্বাস করি।”

কঠিন সময়ের বাস্তবতাও অস্বীকার করেননি পর্তুগিজ মহাতারকা। তিনি বলেন, “আমি মিথ্যা বলব না, সময়টা কঠিন ছিল। এটা স্বীকার করতেই হবে। তবে আমরা ফিরে এসেছি।”

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এই জোড়া গোলের মাধ্যমে রোনালদো বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। সমালোচনায় ঘেরা একটি সপ্তাহের পর তার এই পারফরম্যান্স যেন মাঠ থেকেই দেওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী জবাব হয়ে উঠল।