অ’\স্ত্রোপচারের পর আই’\সিইউতে অমিতাভ বচ্চন, বাড়ি ফিরেও কাটেনি কঠিন সময়

ভক্তদের মধ্যে অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bachchan)-কে ঘিরে উন্মাদনা বরাবরই প্রবল। সাপ্তাহিক ছুটির দিন রোববারে অভিনেতার বাড়ি জলসা (Jalsa)-র সামনে জমে ওঠা ভক্তদের ভিড়ই তার সবচেয়ে পরিচিত প্রমাণ। কিন্তু আজকের দিনটি যেন বচ্চনভক্তদের জন্য আনন্দের বদলে উদ্বেগ আর বিচলিত হওয়ার খবর নিয়ে এসেছে। বর্ষীয়ান এই অভিনেতার অ’\স্ত্রোপচার হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, অ’\স্ত্রোপচারের পর তাকে থাকতে হয়েছে আই’\সিইউতেও।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, মুম্বাই (Mumbai)-এর একটি হাসপাতালে অমিতাভ বচ্চনের অ’\স্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে তার শরীরের ঠিক কোন অংশে অ’\স্ত্রোপচার করা হয়েছে কিংবা কী ধরনের চিকিৎসার মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।

অ’\স্ত্রোপচারের পর শারীরিক ও মানসিকভাবে তিনি এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন যে নিজের বর্তমান অবস্থাকে যেন এক ‘ক্লান্তসৈনিক’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। ব্যক্তিগত ব্লগে প্রকাশিত লেখায় সেই কঠিন সময়, শারীরিক য’\ন্ত্রণা এবং মানসিক অবসাদের কথাই ফুটে উঠেছে। অমিতাভ জানিয়েছেন, অ’\স্ত্রোপচারের পর দক্ষ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তাকে আই’\সিইউতে থাকতে হয়েছে। হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরতে পারলেও সুস্থ হয়ে ওঠার পথ যে একেবারেই সহজ নয়, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

নিজের ব্লগে অমিতাভ লেখেন, ‘অ’\স্ত্রোপচারের পর দক্ষ চিকিৎসকদের কঠোর পর্যবেক্ষণে আই’\সিইউতে ভর্তি ছিলাম। শেষমেশ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরেছি। তবে ঘরে ফেরার পরবর্তী অধ্যায়টাই জীবনের সবচেয়ে কঠিন পর্যায়। বিশেষ করে শারীরিক, মানসিকভাবে বি’\ধ্বস্ত! ধরুন, আপনি একজন চ্যাম্পিয়ন, আর একদিন যখন পরাজয় আপনার দিকে চেয়ে দেখে, সেটাই জীবনের সবচেয়ে কঠিন পর্যায়।’

তার এই লেখায় অ’\স্ত্রোপচার-পরবর্তী শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি মানসিক লড়াইয়ের ছবিও উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে পর্দায় দৃঢ়তা, সাহস ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে থাকা অভিনেতা যেন নিজের বাস্তব জীবনের কঠিন এক অধ্যায়ের কথাই ভক্তদের সামনে তুলে ধরেছেন। হাসপাতালের চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরা স্বস্তির হলেও, তার ভাষায়, ঘরে ফেরার পর শুরু হওয়া সময়টিই হয়ে উঠেছে জীবনের সবচেয়ে কঠিন পর্ব।

নিজেকে একজন চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে তুলনা করে অমিতাভ বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, দীর্ঘ সময় জয়ী থাকার পর হঠাৎ যখন পরাজয় সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন সেই বাস্তবতাকে গ্রহণ করা কতটা কঠিন হয়ে ওঠে। শারীরিক দুর্বলতা ও মানসিক ক্লান্তির এই সময়কে তিনি শুধু চিকিৎসাজনিত একটি অধ্যায় হিসেবে দেখেননি; বরং মানুষের সাহস, আত্মবিশ্বাস ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতার সঙ্গেও মিলিয়ে দেখেছেন।

তবে এত কঠিন সময়ের মধ্যেও আশাবাদী থাকার বার্তা দিতে ভোলেননি বর্ষীয়ান এই অভিনেতা। তার মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতি সামনে এলে একেকজন মানুষ একেকভাবে তার মোকাবিলা করেন। কেউ সাহস নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান, আবার কেউ পরিস্থিতির চাপে ভেঙে পড়েন। কিন্তু যারা শেষ পর্যন্ত লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান না, প্রকৃত বিজয়ী হিসেবে তারাই টিকে থাকেন।

অমিতাভ সবার উদ্দেশে লেখেন, ‘কেউ সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন, কেউ-বা ভেঙে পড়েন। যারা সাহস নিয়ে লড়তে জানেন, তারাই আদতে বিজয়ী হিসেবে টিকে থাকেন। আর যারা সেটা পারেন না, তারা পরিস্থিতির সঙ্গে আপস করে নেন। কেউ-বা আবার অতীতের গৌরবময় অধ্যায়কে আঁকড়ে বাঁচেন। যদিও এসব একান্তই ব্যক্তিগত পছন্দ, তবুও বলব, ভালো থাকুন, আনন্দে থাকুন।’

তার এই বক্তব্যে নিজের বর্তমান অবস্থার পাশাপাশি জীবনের কঠিন সময় পার করা মানুষের জন্যও একটি বার্তা রয়েছে। প্রতিকূলতার সামনে দাঁড়িয়ে সাহস হারিয়ে না ফেলা, পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত আশাবাদী থাকার কথাই বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে যারা অতীতের সাফল্য ও গৌরবের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকেন, তাদের সিদ্ধান্তকেও ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবে দেখেছেন অমিতাভ।

শেষ পর্যন্ত নিজের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির কথা প্রকাশ করলেও ভক্তদের প্রতি তার বার্তা ছিল ইতিবাচক—ভালো থাকা এবং আনন্দে থাকার চেষ্টা করা। নিজের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েও তিনি অন্যদের সাহস দেওয়ার পথটিই বেছে নিয়েছেন।

৮৩ বছর বয়সী অমিতাভ বচ্চন এখনো বলিউড (Bollywood)-এর অন্যতম ব্যস্ত অভিনেতা। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে কাজ করে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। বয়সের এই পর্যায়েও নিয়মিত অভিনয় এবং বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকার কারণে তাকে ঘিরে ভক্তদের আগ্রহও কমেনি।

এমন অবস্থায় তার অ’\সুস্থতা এবং অ’\স্ত্রোপচারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে অ’\স্ত্রোপচারের পর আই’\সিইউতে থাকার খবর সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। তবে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার তথ্য কিছুটা স্বস্তি দিলেও, নিজের ব্লগে অমিতাভ যে শারীরিক ও মানসিক কঠিন সময়ের কথা জানিয়েছেন, তা ভক্তদের বিচলিত করেছে।