চু’\প্পুর পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে? বিএনপির ভেতরে যাদের নাম ঘিরে জোর আলোচনা

মো. সাহাবুদ্দিন চু’\প্পু রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সংসদ সচিবালয় ও ক্ষমতাসীন দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হলেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। এদিকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি নিয়ে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP)-এর ভেতরেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতার নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খান। পাশাপাশি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আলোচিত হচ্ছে।

এছাড়া সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka)-এর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী এবং বর্তমান চুক্তিভিত্তিক মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। শিক্ষাক্ষেত্র ও প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে তাদের নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচনায় এসেছে।

তবে ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারণ হবে প্রধানমন্ত্রী ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদে কে আসবেন, সেই সিদ্ধান্ত মূলত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর রাজনৈতিক বিবেচনার ওপরই নির্ভর করবে। জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলটির সিদ্ধান্তই কার্যত নির্ধারক হবে।

সংবিধান কী বলছে

বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান এবং তিনি জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সেই তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালিত হয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার অথবা কমিশনের মনোনীত রিটার্নিং কর্মকর্তা পুরো নির্বাচন পরিচালনা করেন।

আইন অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে পারবেন না, তবে তারা প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে পারবেন।

মনোনয়নপত্রে নির্ধারিতসংখ্যক সংসদ সদস্যের প্রস্তাব ও সমর্থন প্রয়োজন হয়। যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। যদি মাত্র একজন বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে তাকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেবে। সংসদ অধিবেশন চলাকালে তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজন হলে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্ষমতাসীন বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে কাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। দলীয় সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হবে। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী বিরোধী দলও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী দিতে পারবে।

আলোচনায় যাদের নাম

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসন এবং বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। সরকার কিংবা বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করা না হলেও বিভিন্ন সূত্রে কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং বিভিন্ন মহলে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একইভাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও তাকে আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খান শিক্ষা, কূটনীতি ও জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে আলোচিত হচ্ছে।

এছাড়া বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। তিনি স্পিকারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে পারেন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

সম্ভাব্যদের তালিকায় আরও রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী। শিক্ষাবিদ হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে তার নাম আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি (Nasimul Ghani)-এর নামও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে তাকেও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।