মেহেরপুরে মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে ধ’র্ষণ: আওয়ামী লীগ নেতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মেহেরপুরে মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধ’র্ষণের মামলায় কলিমুদ্দিন ওরফে কালু নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক স্থানীয় নেতাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তি।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত কলিমুদ্দিন কালু মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের আব্দুল মণ্ডলের ছেলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা এবং পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রায় ঘোষণার পর কারাগারে নেওয়ার সময় আদালত চত্বরে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন কালু। পরে তাকে বেঞ্চে শুইয়ে মাথায় পানি দেওয়া হয়। তাতেও জ্ঞান না ফেরায় পুলিশ সদস্যরা তাকে পিকআপে করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে পিরোজপুর গ্রামের ওই নারী রাতের খাবার শেষে ঘরে মশারি টাঙাচ্ছিলেন। এ সময় ইউপি সদস্য কলিমুদ্দিন কালু তার ঘরে প্রবেশ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ওই নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধ’র্ষণ করেন।

ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার সময় কাউকে বিষয়টি জানালে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।

ঘটনার তিন দিন পর ভুক্তভোগীর মা পারভীনা খাতুন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মেহেরপুর সদর থানায় মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় মোট সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত কলিমুদ্দিন কালুকে দোষী সাব্যস্ত করেন। এরপর তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানার সাজা দেওয়া হয়।

রায়ে জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী নারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে জরিমানার অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকে তা আদায়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এ জন্য আইন অনুযায়ী আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রি করে অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী ইব্রাহীম শাহীন মামলা পরিচালনা করেন।