পত্রিকায় ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপনে আরিফিন শুভ, রহস্যের নেপথ্যে কী?

দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ (Arifin Shuvoo)। বড় পর্দায় নানা চরিত্রে কখনো প্রেমে পড়েছেন, কখনো বিয়ে করেছেন, আবার কখনো সংসারী মানুষের ভূমিকায়ও দেখা গেছে তাঁকে। কিন্তু এবার কি বাস্তব জীবনেই নতুন কোনো ইনিংস শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই অভিনেতা? এমন প্রশ্ন ওঠার কারণও আছে। পত্রিকার পাতায় বিজ্ঞাপন দিয়ে নাকি নিজের জন্য পাত্রী খুঁজছেন শুভ!

শুনতে যতটা চমকপ্রদ, পুরো ঘটনার রহস্য যেন তার চেয়েও বেশি মজার।

সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে একটি ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপন। সেখানে পাত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘আনিসুর রহমান আনিস’ নামের এক ব্যক্তিকে। বয়স ৩৫ বছর, পেশায় সরকারি প্রকৌশলী। পাত্রের পরিচয় দিতে গিয়ে বিজ্ঞাপনে গুণের তালিকাও ছোট রাখা হয়নি। তিনি নম্র, সৎ ও দায়িত্বশীল—এমনটাই বলা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, রান্নার কাজেও নাকি বেশ পারদর্শী এই পাত্র।

এই আনিসুর রহমান আনিসের জন্য চাওয়া হয়েছে সম্ভ্রান্ত পরিবারের সুন্দরী পাত্রী। তবে কেবল সৌন্দর্যই এখানে যথেষ্ট নয়। পাত্রের ছোট ভাই-বোনের দায়িত্ব নিতে পারবেন, এমন অভিভাবকসুলভ মানসিকতার পাত্রীকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পর্যন্ত পড়লে বিষয়টিকে খুব সাধারণ একটি বিয়ের বিজ্ঞাপন বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু আসল চমক অপেক্ষা করছে ছবির জায়গাটিতে। কারণ ‘আনিসুর রহমান আনিস’-এর পরিচয়ের সঙ্গে যে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেই মুখটি আর কারও নয়—চিত্রনায়ক আরিফিন শুভর!

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি সত্যিই বিয়ের জন্য পত্রিকার পাতায় বিজ্ঞাপন দিয়েছেন শুভ? ব্যক্তিজীবনে সিঙ্গেল এই তারকার জন্য কি এবার আনুষ্ঠানিকভাবেই পাত্রী খোঁজার কাজ শুরু হয়ে গেল? নাকি বাস্তব বলে মনে হওয়া এই আয়োজন আসলে পর্দার কোনো গল্পেরই অংশ?

শুভকে ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্য অবশ্য একটি বিজ্ঞাপনেই থেমে নেই। একই জায়গায় প্রকাশ পেয়েছে আরও একটি বিজ্ঞাপন। এবার শিরোনাম—‘পাত্র চাই’।

সেই বিজ্ঞাপনে পাত্রীর নাম দেওয়া হয়েছে ‘অনামিকা অনু’। বয়স ২৪ বছর। তিনি অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। নৃত্যকলায় পারদর্শী এই তরুণীকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে ট্রেন্ডি ও ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেও। তাঁর জন্য প্রয়োজন সৎ ও বোঝদার একজন সুপাত্র।

তবে এই পাত্র নির্বাচনের শর্তে রয়েছে বেশ আধুনিকতার ছোঁয়া। বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ফটোজেনিক এবং ‘পিন্টারেস্ট পারফেক্ট’ কোনো পাত্র হলে তাঁকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এখানেও চমকের শেষ নেই। ‘অনামিকা অনু’র পরিচয়ের পাশে যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রী কেয়া পায়েল (Keya Payel)-কে।

এরপর দুইয়ে দুইয়ে চার মেলানো খুব একটা কঠিন হওয়ার কথা নয়। একদিকে আরিফিন শুভর ছবি দিয়ে ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপন, অন্যদিকে কেয়া পায়েলের ছবি দিয়ে ‘পাত্র চাই’। দুজনেরই ব্যক্তিজীবন বর্তমানে সিঙ্গেল। ফলে প্রশ্ন আরও জোরালো—পত্রিকার পাতায় শুরু হওয়া এই পাত্র-পাত্রীর গল্পে কি শুভ ও পায়েলই হতে যাচ্ছেন একে অন্যের কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী?

নাকি এতক্ষণ ধরে তৈরি হওয়া এই বিয়ের রহস্যের পেছনে রয়েছে সম্পূর্ণ অন্য কোনো গল্প?

উত্তরের ইঙ্গিত অবশ্য বিজ্ঞাপনেই লুকিয়ে রাখা হয়েছে। দুটি বিজ্ঞাপনের একেবারে নিচের অংশে ছোট অক্ষরে লেখা—‘বিজ্ঞাপনী স্বার্থে প্রচারিত’। ছোট্ট এই একটি লাইনই যেন পুরো আয়োজনের রহস্য খুলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় সূত্র।

জানা গেছে, আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল অভিনীত সিনেমা ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ (Happily Married)-এর প্রচারণার অংশ হিসেবেই সাজানো হয়েছে এমন অভিনব আয়োজন। সিনেমাটিতে শুভর চরিত্রের নাম আনিস, আর কেয়া পায়েলের চরিত্রের নাম অনামিকা।

সেই সূত্র ধরেই পত্রিকার পাতায় হাজির হয়েছেন ‘আনিসুর রহমান আনিস’ ও ‘অনামিকা অনু’। একজনের জন্য পাত্রী চাওয়া হয়েছে, অন্যজনের জন্য পাত্র। সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে শুভ ও পায়েলের ছবি। সবকিছু মিলিয়ে সিনেমাটির প্রচারণায় বিয়ের বিজ্ঞাপনের এই কৌশল বেশ অভিনব এক আবহ তৈরি করেছে।

তাই বিজ্ঞাপন দেখে যারা সত্যিই আরিফিন শুভর জন্য পাত্রী খোঁজার কাজে নেমে পড়েছিলেন, তাদের আপাতত সেই ভাবনা সরিয়ে রাখতেই হচ্ছে। কারণ পত্রিকার পাতায় যে বিয়ের আয়োজন শুরু হয়েছে, সেটি বাস্তব জীবনের কোনো নতুন অধ্যায় নয় কি না—তার আসল উত্তর লুকিয়ে আছে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর গল্পের মধ্যেই।