ইরানকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একাধিক বিতর্কিত ও কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং অভ্যন্তরীণ সমালোচনার প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া—যা নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব তথ্য প্রকাশ করেছে আল–জাজিরা (Al Jazeera)।
ইরানের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আবারও হুমকি
ট্রাম্প সরাসরি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—বিশেষ করে সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধনীতির প্রশ্নে গুরুতর বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা বাস্তবায়িত হলে তা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।
তেলের মজুদ ‘দখল’ করে লাভের চিন্তা
ইরানের বিপুল তেলের মজুদ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে তিনি এই মজুদ ‘দখল’ করতে চাইতেন এবং এর মাধ্যমে ‘প্রচুর অর্থ উপার্জন’ সম্ভব হতো। এমন বক্তব্যকে অনেকেই একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের সম্পদের ওপর সরাসরি দাবি হিসেবে দেখছেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রথার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
যুদ্ধবিরোধীদের ‘বোকা’ আখ্যা
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ নাগরিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবে ট্রাম্প এই অবস্থানকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো সমালোচকদের কটাক্ষ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ ভিত্তিক সমর্থকদের মধ্যে দৃঢ় সমর্থন রয়েছে এবং যুদ্ধবিরোধীদের তিনি সরাসরি ‘বোকা’ বলে উল্লেখ করেন। এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন আরও প্রকট করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানে সরকারবিরোধীদের কাছে অস্ত্র পাঠানোর দাবি
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত দাবি করে ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসন ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করতে সেখানে অস্ত্র পাঠিয়েছিল। যদিও তিনি স্পষ্ট করে জানাননি, ঠিক কোন গোষ্ঠীর হাতে এই অস্ত্র পৌঁছেছে। এই অস্পষ্টতা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন কার্যক্রম নিয়ে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে চূড়ান্ত আলটিমেটাম
ট্রাম্প জানান, ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার জন্য দেওয়া তাঁর আলটিমেটাম চূড়ান্ত। তিনি বলেন, ইরানের প্রতিক্রিয়া ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হলেও তা ‘যথেষ্ট ভালো নয়’। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।
এই ধারাবাহিক বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক হুমকি, অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রকাশ্য উচ্চারণ এবং অভ্যন্তরীণ সমালোচনার প্রতি আক্রমণাত্মক মনোভাব—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে।


