বিমানবন্দরেই গ্রেপ্তার ‘ক্যাশিয়ার শাহীন’, রাফি করিম হ’\ত্যা মামলায় নতুন মোড়

ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার একটি ব্যাংকের সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান শাহীন—স্থানীয়দের কাছে ‘ক্যাশিয়ার শাহীন’ নামে পরিচিত—অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছেন। বুধবার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Hazrat Shahjalal International Airport) থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (Police Bureau of Investigation)। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ (Awami League) সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আপন ভাগিনা।

জানা যায়, গত বছরের ৭ জুলাই তিনি দেশ ছেড়ে কাতারে পালিয়ে যান। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরেন তিনি। তবে বিমানবন্দরে নামার পরপরই ইমিগ্রেশন পুলিশের নজরে পড়েন এবং সেখানেই তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে দোহার থানায় দায়ের করা একটি হ’\ত্যা মামলা রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত ছিল।

রাফি করিম হ’\ত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পিবিআইয়ের পরিদর্শক জামাল উদ্দিন জানান, গত ২০ মে রাতে দোহার উপজেলার শাইনপুকুর এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে স্থানীয় যুবক রাফি করিমকে কু’\পি’\য়ে হ’\ত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা আনোয়ারা খানম বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই মিজানুর রহমান শাহীন আত্মগোপনে চলে যান এবং পরে দেশ ছেড়ে কাতারে পাড়ি জমান।

তদন্তের অগ্রগতিতে ইতোমধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামি—শহিদ, টিটু, হুকুম আলী ও আলামিন—গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে আলামিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

এই জবানবন্দিতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বলা হয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাগিনা শাহীন শাইনপুকুর এলাকার একাধিক দীঘি দখলে নেন। এসব দীঘির মধ্যে রাফি করিমদের মালিকানাধীন কয়েকটিও ছিল। পরবর্তীতে ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতির পরিবর্তনে রাফি করিম নিজের দীঘির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেন। এই ঘটনাই দ্বন্দ্বকে চরমে নিয়ে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, এর জের ধরেই শাহীন রাফি করিমকে হ’\ত্যা করার পরিকল্পনা করেন এবং তার নির্দেশেই আলামিনসহ অন্যরা কু’\পি’\য়ে এই হ’\ত্যা’কা’\ণ্ড ঘটায়।

গ্রেপ্তারের পর মিজানুর রহমান শাহীনকে আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, মিজানুর রহমান শাহীন দেশে ফেরার পেছনে একটি বিশেষ কারণ ছিল। ঢাকায় অবস্থিত জার্মান দূতাবাসে তার ভিসা সংক্রান্ত সাক্ষাৎকার নির্ধারিত ছিল বুধবার। সেই সাক্ষাৎকারে অংশ নিতেই তিনি দেশে ফিরেছিলেন। কিন্তু দেশে পা রাখতেই গ্রেপ্তার হয়ে তার সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।