ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের জন্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগেই লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) এ হামলায় লেবাননে অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। হামলার জবাবে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি লেবাননের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তারা প্রতিপক্ষকে ‘পস্তাতে হয়এমন জবাব’ দেবে। এর ফলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শান্তিচুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
হেজবুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, লেবাননের বিরুদ্ধে ‘ইসরায়েলি-আমেরিকান আগ্রাসন’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা হামলা চালিয়ে যাবে। বুধবার মাত্র ১০ মিনিটে লেবাননের ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। হামলা বন্ধ না হলে পাল্টা আঘাতের হুমকি দিয়েছেন ইরান।
এতে আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। পরে তা নিশ্চিত করেছে ইসরায়েল, ইরান ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান। তবে লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলায় যুদ্ধবিরতি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া, লেবানন যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়ে কি না, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবারের হামলাকে হেজবুল্লাহর ওপর ‘সবচেয়ে বড় আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে ইসরায়েল আবারও ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করতে প্রস্তুত থাকবে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, তেহরানের দেওয়া যুদ্ধবিরতির ১০ দফা প্রস্তাবের তিনটি ধারা ইতোমধ্যেই ‘প্রকাশ্যে ও স্পষ্টভাবে লঙ্ঘিত’ হয়েছে। তিনি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি চালিয়ে যাওয়াকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। গালিবাফ আরও উল্লেখ করেন, প্রস্তাবে লেবানন অন্তর্ভুক্ত ছিল, যদিও হোয়াইট হাউস তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের ফার্স প্রদেশে একটি ড্রোন প্রবেশ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারও প্রস্তাবে উল্লেখ ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।


