আসন্ন নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (International Cricket Council – ICC)। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টে মোট প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮,৭৬৪,৬১৫ মার্কিন ডলার (১০৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা), যা ২০২৪ সালের আসরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।
আগের আসরে, অর্থাৎ ২০২৪ সালে ১০ দলের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি ছিল ৭,৯৫৮,০৭৭ ডলার (প্রায় ৯৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা)। এবার প্রথমবারের মতো দলসংখ্যা বাড়িয়ে ১২টি করা হয়েছে, যা টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতা আরও বিস্তৃত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘোষণা অনুযায়ী, বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২,৩৪০,০০০ ডলার (২৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা), আর রানার-আপ দল পাবে ১,১৭০,০০০ ডলার (১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা)। সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল পাবে ৬৭৫,০০০ ডলার (প্রায় ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা) করে।
গ্রুপ পর্বেও থাকছে আকর্ষণীয় প্রণোদনা—প্রতিটি জয়ের জন্য দেওয়া হবে ৩১,১৫৪ ডলার (৩৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা)। এছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল ন্যূনতম ২৪৭,৫০০ ডলার (৩ কোটি ৪৬ হাজার টাকারও বেশি) নিশ্চিতভাবে পাবে, যা দলগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা ও উৎসাহ বাড়াবে।
আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্ত (Sanjog Gupta) বলেন, নারী ক্রিকেটের দ্রুত অগ্রগতি এবং প্রাইজমানি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বৈশ্বিক করে তোলার প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, “নারী ক্রিকেটের প্রসার দিন দিন বাড়ছে। বিনিয়োগ ও সুযোগ বৃদ্ধির ফলে নারী খেলোয়াড়দের প্রভাব বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী হচ্ছে।” তার মতে, এই টুর্নামেন্ট শুধু দর্শকসংখ্যা ও সম্প্রচারের রেকর্ডই গড়বে না, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
নারী ক্রিকেটের এই আর্থিক ও কাঠামোগত উন্নয়নকে অনেকেই দেখছেন একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে খেলাটিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।


