যখন-তখন ওষুধের দাম বাড়িয়ে জনগণকে বিপদে ফেলা যাবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশের ওষুধ শিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ওষুধের দাম রাখতে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ ও স্টেকহোল্ডারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় (Ministry of Health and Family Welfare)-এর স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, শিল্পের স্বার্থ রক্ষা যেমন জরুরি, তেমনি ইচ্ছেমতো ওষুধের দাম বাড়িয়ে জনগণ ও সরকারকে বিপদে ফেলা যাবে না।

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও (Hotel Sonargaon)-এ ‘স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক অংশীজন পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও বিশ্ব ব্যাংক (World Bank)-এর যৌথ উদ্যোগে সভাটির আয়োজন করা হয়।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র দুই-আড়াই মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য খাতের বাস্তব চিত্র দেখে তারা হতাশ হয়েছেন। তার ভাষায়, স্বাস্থ্য খাতের প্রায় সব জায়গায় ভগ্নদশা বিরাজ করছে।

দেশের হাসপাতালগুলোর পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক হাসপাতালে গত ৫ থেকে ৭ বছর ধরে ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণও হয়নি। কোথাও ভবন আছে কিন্তু যন্ত্রপাতি নেই, কোথাও আবার ওষুধ সংকট। এর মধ্যেই সরকারকে স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে হচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত প্রতিকূলতাও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ওষুধের দাম নির্ধারণ প্রসঙ্গে ড. এম এ মুহিত বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তাদের মুনাফার প্রয়োজন রয়েছে। তবে অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়লেও বছরের পর বছর ওষুধের দাম স্থির রাখাও যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনি কোনো নীতির সুযোগ নিয়ে যখন খুশি দাম বাড়িয়ে দেওয়াও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি চায়, যাতে একদিকে শিল্প টিকে থাকে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ও সরকার চাপে না পড়ে। জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ওষুধ শিল্পের মালিকদের সমস্যাগুলো সরকার বুঝতে চায় এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছে। তবে এই সংকট সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, নতুবা শিল্প ও দেশ—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (Directorate General of Health Services)-এর মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল এটিএম ইসলাম, বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের প্রতিনিধি, ওষুধ শিল্পের মালিক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।