সংসদ সদস্যদের সরকারি বাসভবনে মাইক্রোওভেন, ওয়াশিং মেশিন ও পর্দার ব্যবস্থা করার দাবি ঘিরে জাতীয় সংসদে অপ্রত্যাশিত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ দাবিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর এক সদস্যের বক্তব্যের পর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (Bangladesh Jatiya Party)-এর চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ (Andaleeb Rahman Partho) ব্যক্তিগতভাবে একটি মাইক্রোওভেন দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman)। শেষ পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed) হস্তক্ষেপ করে বিতর্ক থামানোর আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, একজন সংসদ সদস্যের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের সমস্যা, প্রত্যাশা ও দাবি-দাওয়া সংসদে তুলে ধরা। সেখানে মাইক্রোওভেন, ওয়াশিং মেশিন কিংবা পর্দার মতো ব্যক্তিগত সুবিধার বিষয় সংসদে আলোচনায় আনা সংসদের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য সংসদ এবং সংসদ সদস্যদের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যদি সংশ্লিষ্ট সদস্যের সত্যিই মাইক্রোওভেনের প্রয়োজন হয়ে থাকে, তাহলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেটি দিতে প্রস্তুত আছেন। পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ওয়াশিং মেশিনের ব্যবস্থা করারও অনুরোধ জানান।
পার্থের এই বক্তব্যের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্পিকার শুরুতেই স্পষ্ট করেছেন যে বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় পড়ে না। তিনি মনে করিয়ে দেন, সংশ্লিষ্ট সদস্য নিজের জন্য নয়, সংসদের সরকারি বাসভবনে বসবাসকারী সকল সদস্যের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি সংসদে না তুলে সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে উত্থাপন করা যেত—এ কথা স্পিকার যথাযথভাবেই বলেছেন। তবে সেই প্রসঙ্গ ধরে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে কিছু দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়াও সম্মানজনক হয়নি বলে তিনি ইঙ্গিত করেন।
তিনি বলেন, “উনার কাছে কেউ চায়নি যে উনি দেবেন। আমাদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত, যাতে এখানে দাঁড়িয়ে আমরা কেউ কারও সম্মানে আঘাত না করি।”
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হস্তক্ষেপ করে বলেন, তিনি চান না এই বিষয়টি নিয়ে সংসদে আর কোনো বিতর্ক চলুক। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আর বাড়াবাড়ি তো কোনো দরকার নেই।”
স্পিকার আরও মন্তব্য করেন, একজন সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু দেওয়ার প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে অসম্মানজনক বলেও মনে হতে পারে। কারণ তিনি নিজের জন্য কোনো সুবিধা চাননি; বরং সংসদের সরকারি বাসভবনে বসবাসকারী সকল সদস্যের জন্য বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।
দুই নেতার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার সংসদ সদস্যদের আবাসনসংক্রান্ত বিষয় দেখভালের জন্য বিদ্যমান ‘হাউস কমিটি’র কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রয়োজনীয় দাবি ও প্রস্তাব ওই কমিটির মাধ্যমেই উত্থাপন করা যেতে পারে।
স্পিকার আরও বলেন, বিষয়টিকে গুরুতর কোনো অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে সংসদে এ ধরনের দাবি উত্থাপন না করাই ভালো ছিল, কারণ এতে জনমনে ভিন্ন ধরনের ধারণা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত সুবিধার অংশ হিসেবেও বিষয়টি বিবেচিত হতে পারে।
সবশেষে তিনি সংসদের সকল সদস্যকে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সংযত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
