ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের (Keir Starmer) পদত্যাগের ঘোষণার পর তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে একাধিক রাজনীতিবিদের নাম সামনে এসেছে। তবে সোমবার স্টারমার পদত্যাগের কথা জানানোর পর যাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে, তিনি অ্যান্ডি বার্নহাম (Andy Burnham)। সম্ভাব্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় উঠে আসা এই রাজনীতিবিদ কিছুদিন আগেও গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন।
চলতি বছরের মে মাসে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে উঠলে মেয়রের পদ ছেড়ে দেন বার্নহাম। এরপর উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হন তিনি। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনে জয়লাভ করে মেয়রের পদ থেকে সরাসরি পার্লামেন্টের সদস্য হয়েছেন বার্নহাম।
রয়টার্সের (Reuters) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সি বার্নহাম ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তৎকালীন লেবার প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের (Gordon Brown) সরকারে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি দুইবার লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন। তবে ২০১০ সালে এড মিলিব্যান্ড এবং ২০১৫ সালে জেরমি করবিনের কাছে পরাজিত হন। এরপর তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র পদে নির্বাচন করেন।
উত্তর ইংল্যান্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ নগরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ২০২০ সালে বার্নহাম তৎকালীন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে আলোচনায় আসেন। কোভিড পরিস্থিতির সেই সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন (Boris Johnson) পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ না দিয়েই ম্যানচেস্টারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে চাইলে প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করেন বার্নহাম।
সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এমন অবস্থানের কারণে ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে বার্নহামের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে। ব্যাপক জনসমর্থনের পাশাপাশি তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ বা ‘উত্তরের রাজা’ উপাধিও পান। একই সময়ে জাতীয় রাজনীতিতেও তার পরিচিতি ও রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বার্নহামের নাম সামনে আসার পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার প্রবর্তিত ‘ম্যানচেস্টারিজম’ দর্শন। এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দর্শনের মূল বার্তায় একদিকে ব্যবসাবান্ধব নীতির কথা বলা হয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে সমাজতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা।
বার্নহামের বিশ্বাস, ম্যানচেস্টারের দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থান থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা কাজে লাগিয়ে পুরো ব্রিটেনের অর্থনীতিকে নতুনভাবে সাজানো সম্ভব। তার সেই ভাবনা এবং উত্তর ইংল্যান্ডে গড়ে ওঠা শক্তিশালী জনসমর্থনই এখন তাকে স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের আলোচনায় এগিয়ে রেখেছে।
সূত্র: রয়টার্স


