জাতীয় দলের সাবেক তারকা ক্রিকেটার নাসির হোসেন (Nasir Hossain) ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা (Tamima Sultana)-কে বিয়ে করেন। বিয়ের ১০ দিন পর তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় তার অভিযোগ ছিল, তাকে তালাক না দিয়েই নাসির হোসেনকে বিয়ে করেছেন তামিমা।
অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের হওয়া এই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে জাতীয় দলের সাবেক এই ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারা’\দণ্ড হতে পারে। একই অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার স্ত্রী তামিমা সুলতানাও একই মেয়াদের দণ্ডের মুখে পড়তে পারেন।
গত বুধবার, ৬ মে দুপুরে মামলার শুনানি শেষে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (Dhaka Chief Metropolitan Magistrate Court)-এর বিচারক এ বিষয়ে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
শুনানিতে বাদীপক্ষ নাসির ও তামিমার সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আবেদন করে। অন্যদিকে বিবাদীপক্ষ নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করে।
মামলা ও সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়টি নিয়ে আজ সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন তামিমা সুলতানা। সেখানে নিজের অবস্থান তুলে ধরে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং নাসির হোসেনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন তিনি।
তামিমা সুলতানার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো—
“অপ’\রাধ?
হ্যাঁ: অপ’\রাধ তো হয়েছে!
যে কাপুরুষদের সমাজে ছোট শিশু বাচ্চা, বৃদ্ধ মহিলা থেকে শুরু করে প্রেগন্যান্ট মহিলারা পর্যন্ত ধ’\র্ষিত (আর ধ’\র্ষক গর্বিত) সেই সমাজে একজন ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করে সম্মান দেওয়াটা অবশ্যই দণ্ডণীয় অপ’\রাধ। সেই মানুষগুলো কি বিচার পেয়েছে?
কিভাবে পাবে!
তারা তো সেলিব্রিটি না, তাদের নিয়ে নিউজ করলে তো জনগণ দেখবে না, ভিউ ব্যবসা হবে না! ফলোয়ার বাড়বে না, আর টাকাও কামাই হবে না! ইত্যাদি, ইত্যাদি। আমাদের নিয়ে যত নিউজ বা আলোচনা এর ২০% ও যদি ওই সব নারীদের জন্য হতো তাহলে কোনো নারীকে আর এই সমাজে, স্বামীর সংসারে বা কোথাও নির্যা’\তিত হতে হতো না।
যে সমাজ নারীদেরকে পায়ের নিচে দাবিয়ে রাখতে চায়, আর নারীদেরকে শুধু ভোগের সামগ্রী মনে করে, সেই কাপুরুষদের সমাজে নাসির আমাকে মাথার মুকুট বানিয়ে রেখেছে। সেই জন্য যারা কাপুরুষ তাদের এতো মাথা ব্যথা হচ্ছে তাই না?
নাসির হোসেন কাপুরুষদের সমাজে আমার বীরপুরুষ।”
নিজের পোস্টে তামিমা দাবি করেন, একজন ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করে সম্মান দেওয়ার কারণেই নাসিরকে নিয়ে এত আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। একই সঙ্গে নারী নিপীড়নের বিভিন্ন ঘটনা গণমাধ্যমে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায় না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে যতটা আলোচনা হয়েছে, তার সামান্য অংশও সমাজে নির্যা’\তিত নারীদের নিয়ে হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারত। নাসির হোসেন তাকে সম্মানের সঙ্গে রেখেছেন উল্লেখ করে তিনি স্বামীকে নিজের ‘বীরপুরুষ’ হিসেবেও আখ্যা দেন।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ
