জন্মদিনের কেক কাটতে গিয়ে একেবারেই অপ্রত্যাশিত এক চমকের মুখোমুখি হলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা (Dilara Hanif Purnima)। কেকের ওপর ছুরি চালাতে গিয়েই বাধা পান তিনি। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে কেকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে ছোট্ট একটি রহস্যময় বাক্স। মুহূর্তেই সেটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
পূর্ণিমার জন্মদিনকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন করে চ্যানেল আই (Channel i)। ‘জোছনার ওপারে পূর্ণিমা’ শিরোনামের বিশেষ অনুষ্ঠানের শুটিংয়ে অংশ নিতে গিয়ে শুরু থেকেই একের পর এক চমকে অভিভূত হন এই অভিনেত্রী।
অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর থেকেই পূর্ণিমার জন্য অপেক্ষা করছিল অন্যরকম এক আবহ। চ্যানেল আইয়ের মূল ফটক থেকে স্টুডিও পর্যন্ত পুরো করিডর সাজানো হয়েছিল তার প্রায় তিন দশকের অভিনয়জীবনের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্তের আলোকচিত্র দিয়ে। লালগালিচা পেরিয়ে স্টুডিওতে প্রবেশের সময় যেন নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ফেলে আসা নানা সময়, চরিত্র ও স্মৃতির মুখোমুখি হন তিনি।
করিডরের প্রতিটি ছবিই পূর্ণিমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় তার অভিনয়জীবনের ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায়ে। চলচ্চিত্রে পথচলার শুরু থেকে তারকাখ্যাতি, জনপ্রিয় সিনেমা কিংবা সহশিল্পীদের সঙ্গে কাটানো স্মরণীয় সময়—সবকিছুরই ছাপ ছিল সেই বিশেষ সাজসজ্জায়।
স্টুডিওতে প্রবেশের পর তাকে স্বাগত জানান সংগীতশিল্পী সোমনূর মনির কোনাল (Somnur Monir Konal)। এরপর শুরু হয় আড্ডাভিত্তিক বিশেষ অনুষ্ঠান। সেখানে নিজের অভিনয়জীবনের শুরুর গল্প, স্মরণীয় সিনেমা, প্রিয় সহশিল্পী, পছন্দের গান, খাবার এবং ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা প্রসঙ্গ তুলে ধরেন পূর্ণিমা।
কথোপকথনে উঠে আসে তার দীর্ঘ অভিনয়যাত্রার আনন্দ, সাফল্য ও স্মৃতির নানা দিক। চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়ে পাওয়া অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ক্যামেরার বাইরের পূর্ণিমাকেও নতুনভাবে জানার সুযোগ তৈরি হয় অনুষ্ঠানটিতে।
তবে আয়োজনের সবচেয়ে বড় চমকটি অপেক্ষা করছিল একেবারে শেষ মুহূর্তের জন্য। চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর (Faridur Reza Sagar)-কে পাশে নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটতে যান পূর্ণিমা। কিন্তু কেকে ছুরি চালাতেই অপ্রত্যাশিতভাবে বাধা পান তিনি।
পরে কেকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে একটি ছোট বাক্স। রহস্যময় সেই বাক্সটি দেখে পূর্ণিমার পাশাপাশি উপস্থিত সবার মধ্যেই কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। তবে বাক্সটির ভেতরে আসলে কী ছিল, তা এখনই প্রকাশ করেননি আয়োজকেরা। ফলে জন্মদিনের এই বিশেষ উপহার ঘিরে রহস্যও থেকে গেছে।
অপ্রত্যাশিত উপহার ও পুরো আয়োজন দেখে আনন্দিত পূর্ণিমা জানান, জন্মদিনকে কেন্দ্র করে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন তার স্মৃতিতে দীর্ঘদিন থেকে যাবে। অভিনয়জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তকে একসঙ্গে সাজিয়ে তাকে চমকে দেওয়ার এই প্রচেষ্টায় আবেগাপ্লুতও হন তিনি।
ইফতেখার মুনিমের প্রযোজনায় নির্মিত ‘জোছনার ওপারে পূর্ণিমা’ অনুষ্ঠানটি আজ শনিবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৮১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জন্মগ্রহণ করেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। মাত্র ১৫ বছর বয়সে জাকির হোসেন রাজু (Zakir Hossain Raju) পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক ঘটে তার। ওই সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেন রিয়াজ (Riaz)।
অল্প বয়সে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করলেও খুব দ্রুতই দর্শকের নজর কাড়েন পূর্ণিমা। প্রায় তিন দশকের অভিনয়জীবনে তিনি ৮০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। বৈচিত্র্যময় চরিত্র, পর্দায় সাবলীল উপস্থিতি এবং জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গে সফল জুটির কারণে ঢালিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি।
২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মনের মাঝে তুমি’ সিনেমা পূর্ণিমাকে তারকাখ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়। সিনেমাটির জনপ্রিয়তার পর তার ক্যারিয়ারে নতুন গতি আসে। রিয়াজ ছাড়াও মান্না, শাকিব খান, ফেরদৌস, আমিন খান, রুবেল, কাজী মারুফ ও আরিফিন শুভসহ দেশের শীর্ষ নায়কদের সঙ্গে জুটি বেঁধে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।
বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে সাফল্যের পাশাপাশি সাহিত্যনির্ভর ও ভিন্নধারার কাজেও প্রশংসা পেয়েছেন পূর্ণিমা। ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিলো না’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। চলচ্চিত্রের গণ্ডি পেরিয়ে নাটক ও উপস্থাপনাতেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এই তারকা।


