বিধ্বস্ত নেপালের পাশে সোনু সুদ, ত্রাণ নিয়ে পৌঁছালেন কাঠমান্ডুতে

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সোনু সুদ এর আগেও বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবার ভয়াবহ দুর্যোগে বিধ্বস্ত পার্শ্ববর্তী দেশ নেপালের মানুষের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। নিজের চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের টিমকে সঙ্গে নিয়ে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছেন এই অভিনেতা।

গত ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। ওইদিন এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সোনু সুদ লিখেছিলেন, ‘নেপাল, তুমি একা নও। খাবার, আশ্রয় এবং তোমাদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করার শক্তি নিয়ে আমরা আসছি।’

সোনু সুদ জানিয়েছেন, তার ‘সুদ চ্যারিটি ফাউন্ডেশন’ ভারত থেকে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে নেপালে পৌঁছেছে। শুধু এখন নয়, আগামী দিনগুলোতেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

সোনু বলেন, ‘আমরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। ভারত থেকে অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে এসেছি। যাদের প্রয়োজন, তাদের পাশে থাকাই আমাদের লক্ষ্য। তাদের জীবন আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফেরানোর চেষ্টা করব।’

ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নিয়ে যাওয়া ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে কম্বল ও খাবারসামগ্রী। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে তাদের আরও কী কী প্রয়োজন, সেটিও জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রয়োজনের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে ভারত থেকে সেসব সামগ্রী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সোনু সুদ।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, নিজের জায়গা থেকে সাহায্য করা সবার দায়িত্ব। আমরা প্রচুর কম্বল ও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছি। এখনো তাদের কাছে জানতে চাইছি, আর কী কী প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী ভারত থেকে সেগুলো পাঠানোর চেষ্টা করছি। ভারত থেকে নেপালে ত্রাণ পাঠানো সব সময়েই কিছুটা কঠিন, এর জন্য অনেক মানুষের সাহায্য প্রয়োজন।’

মানুষের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ অবশ্য সোনু সুদের জন্য নতুন নয়। করোনার সময় গোটা দেশ যখন ঘরবন্দি ছিল, তখন পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানো থেকে শুরু করে তাদের চিকিৎসায় সহায়তা এবং দুস্থ মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে এগিয়ে এসেছিলেন এই অভিনেতা।

গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। পানির প্রবল স্রোত ও ভূমিধসে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে।